প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার উঠছে একজন নারীর হাতে।

গণিতে অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক কারেন কেসকুলা উলেনব্যাক বার্ষিক এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সায়েন্স অ্যালার্ট ডটকম।

“গত ৪০ বছরে গণিতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতির ক্ষেত্রে অবদান রাখা কাজের জন্য উলেনব্যাকের আরও বড় স্বীকৃতি পাওয়া উচিত ছিল,” বলেছেন রয়েল সোসাইটির ফেলো জিম আল-খলিলি।

নরওয়েরে অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড লেটারস মর্যাদাপূর্ণ এ এইবেল পুরস্কার দিয়ে থাকে।

গণিতে অবদানের জন্য নোবেল দেয়ার বিধান না থাকায় এ ক্ষেত্রে স্বীকৃতির যে শূন্যতা ছিল এইবেল পুরস্কারের মাধ্যমে তার কিছুটা পূরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সায়েন্স অ্যালার্ট।

এইবেল কমিটির প্রধান হ্যান্স মন্তি কুশ বলেছেন, “জ্যামিতিক বিশ্লেষণ ও গেইজ থিওরি নিয়ে মৌলিক কাজ করায় ২০১৯ সালের এইবেল পুরস্কার পাচ্ছেন কারেন উলেনব্যাক। তার কাজ গাণিতিক দৃশ্যপটে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে। তার তত্ত্ব সাবানের বুদবুদে যেমন তৈরি হয় তেমন ক্ষুদ্র পৃষ্ঠতল এবং উচ্চ মাত্রার ক্ষেত্রে আরও ক্ষুদ্রিকীকরণ সমস্যাগুলো বোঝায় বিপ্লব সাধন করেছে।”

তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের ভাষা হল গেইজ থিওরি, আর এ ক্ষেত্রে উলেনব্যাকের কাজ একটি ভিত্তি তৈরি করেছে যা কণা পদার্থবিদ্যা, স্ট্রিং থিওরি ও সাধারণ আপেক্ষিকতার ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক ভূমিকা পালন করছে।

গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব পুরস্কার দেওয়া হয় ঐতিহাসিকভাবেই তার বেশিরভাগই পুরুষদের দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত নোবেলজয়ী ৯০৪ জনের মধ্যে মাত্র ৫১ জন নারী। তাই প্রথম নারী হিসেবে উলেনব্যাকের এইবেল জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

২০১৪ সালে মারিয়াম মিরজাখানির আগে গণিতের আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ফিল্ডস পদকও কোনো নারী জেতেননি। যদিও তার আগে আরও ৫২ জন ওই পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত মিরজাখানিই ফিল্ডস পদক পাওয়া একমাত্র নারী।

২০০২ সাল থেকে শুরু হওয়া এইবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৪ হাজার মার্কিন ডলার।

আগামী ২১ মে অসলোতে এক অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজা পঞ্চম হেরাল্ড উলেনব্যাকের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য