যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সত্ত্বেও চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে যোগ দিতে যাচ্ছে ইতালি। মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টে জানিয়েছেন, চীনের উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পে যোগ দেওয়া প্রথম সাতটি দেশের মধ্যে থাকবে ইতালি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইতালির ক্ষমতাসীন জোটেও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে দেশের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে কথা বলেন গুইসেপ কন্টে। এ সপ্তাহেই চীনা প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফরে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে ন্যাটোসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নানা জোটে থেকে চীনা প্রকল্পে যুক্ত হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

গুইসেপ কন্টে বলেন, সবার আগে আমরা ব্যবসায়িক ভারসাম্য চাই। বর্তমানে এটি আমাদের অনুকূলে নেই। ইউরোপীয় দেশগুলোর চেয়ে চীনে আমাদের রফতানি খুবই কম। কিন্তু অবকাঠামো (বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের জন্য তৈরি অবকাঠামো) বাণিজ্যিক ট্রাফিক রুটকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করবে। আমাদের নতুন বিমানবন্দর থাকবে, ট্রেড করিডোর থাকবে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিশ্চিতভাবেই এর প্রভাব পড়বে। আমরা কোনও সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না।

চীনের সঙ্গে ইতালির এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বেইজিং যথেষ্ট লাভবান হবে। কেননা এতে করে স্থল ও নৌপথে চীনকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই চীনের এ প্রকল্পে যোগ না দিতে ইতালির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। চীনের এ উদ্যোগকে একটি ‘অসার প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা।

এর আগে গত বছর বেইজিংয়ে এ সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানায় ইউরোপীয় দেশগুলো। তাদের দাবি, এই চীনা প্রকল্পের অর্থায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চীনের এই ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ নিয়ে সমালোচনা, বিতর্ক নতুন নয়। সমকালীন বিশ্বের বৃহত্তর এই সংযোগ প্রকল্পকে একুশ শতকের ‘সিল্ক রোড’ও বলা হচ্ছে। স্থলপথে বহু করিডোরের বেষ্টনী (বেল্ট) আর সমুদ্রপথে সুদীর্ঘ এক শিপিং লেনের যাত্রাপথকে ঘিরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে এই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে চাইছে বেইজিং।

চীনের মূল সিল্ক রোডের অস্তিত্ব ছিল প্রায় দুই হাজার বছর আগে। এটি ছিল বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এর মধ্য দিয়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারার বিনিময় হয়েছে। ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ্যোগ চীনের প্রাচীন সমুদ্র ও সড়ক পথের সিল্ক রোড পুনরুদ্ধারের প্রয়াস। যে সড়ক পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছিল। চীনের দাবি অনুযায়ী, নতুন ‘সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট’ও একই কাজ করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য