UPEবিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ পঞ্চম ধাপে বিরল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী (পরাজিত) প্রার্থীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবী ভোটার উপস্থিতি অনেক কম হলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে শতকরা ৩৮.৭৫ ভাগ, যা অকল্পনীয়! প্রিজাইডিং অফিসারদের দুপুরের খাবার এক প্রার্থীর পক্ষ হতে সরবরাহের নামে খাবার ও পানির বোতল নিয়ে বহিরাগতরা কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগ করেছে অপর এক প্রার্থী।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার বলছে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আগেই প্রার্থীদের নিকট খাবার খাওয়া নিষেধ করা হয়েছিল। তবে সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৩ টি পদে সবচেয়ে কম শতকরা ২৩.৪৩ ভাগ আর সবচেয়ে বেশি ৬৬.১১ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করার তথ্য ফলাফলে প্রকাশ করা হয়েছে।

৯ নং ফরক্কাবাদ এন আই স্কুল এন্ড কলেজ পূর্বাংশ-১ পুরুষ কেন্দ্রের ভোটার সাইদুর রহমান জানান, ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। সাধারণ ভোটাররা দু’একজন করে পর্যায়ক্রমে এসে ভোট প্রদান করছিল।

১২ নং তেঘরা দারুল হাদীস সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটার আশরাফ আলী জানান, এজেন্টদের দুপুরের খাবার ও পানির বোতল প্রদানের সময় বহিরাগত কিছু যুবক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল।

২৯ নং রবিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার মতিউর রহমান জানান, প্রিজাইডিং অফিসার দুপুরে খাবারের জন্য সকল এজেন্টদের বের করে দিয়ে বলেন এখন টিফিনের সময়, আপনারা খেয়ে আসেন- আমাদেরকেও খাওয়ার সুযোগ দেন।

এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, ৩৩ নং পাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৬ নং বৈরাগীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৬ নং গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬০ নং রঘুদেবপুর বাইজকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৭ নং রাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ অনেক কেন্দ্রে।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস সরকার সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহণের জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দেশনা ও প্রার্থীদের নিকট হতে খাবার খাওয়া নিষেধ করা হয়েছিল। তবে প্রিজাইডিং অফিসারদের কোন প্রার্থীর নিকট হতে খাবার গ্রহণ করা নিয়ম নেই। তারপরেও খাবার গ্রহণ করে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড. সূধীর চন্দ্র শীল (লাঙ্গল) জানান, ভোট সূষ্ঠ হয় নাই। নির্বাচনে ভোটারদের রায়ের প্রতিফলন ঘটেনি।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ কুদ্দুস সরকার (চশমা) জানান, বিরল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্খার ও আস্থাকে কবর দেয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা নিজেই এই ভোট ডাকাতির সর্দারের দায়িত্ব পালন করেছে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষের ভোটের প্রতি আস্থা সম্পূর্ণরূপে উঠে যাবে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতানা ইয়াসমিন রুমন (ফুটবল) জানান, আমাকে চক্রান্তকারীরা পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য