বিশ্বজুড়ে সমস্ত ৭৩৭ ম্যাক্স এর উড়ান বন্ধ করলো বোয়িং৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের সব বিমান চলাচল স্থগিত করেছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং। ইথিওপিয়ায় বিমান দুর্ঘটনার স্থল থেকে তদন্তকারীরা কারিগরী ত্রুটির নতুন আলামত পেয়েছে জানালে এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রার পর জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের একটি বিমান। ওই এলাকার আশেপাশে যারা নৌকায় ছিলেন তারা আকাশ থেকে বিমানটিকে সাগরে পড়তে দেখেন।

এতে সেখানে থাকা ১৮৯ আরোহীর সবার মৃত্যু হয়। ওই বিমান বিধ্বস্তের পর তদন্তকারীরা বলেছিলেন, এতে যুক্ত করা নতুন সুবিধা হিসেবে আকাশে ভেসে থাকার এক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে পেরে ওঠেননি পাইলটেরা। এ ঘটনার পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও বিধ্বস্ত হলো একই মডেলের একটি বিমান।

রবিবার (১০ মার্চ) সকাল পৌনে নয়টার দিকে ১৫৭ জন আরোহী নিয়ে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের বিমান বিধ্বস্ত হয়। প্রাণ হারায় বিমানের সব আরোহী। উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাকবক্স থেকে বিমান বিধ্বস্তের কারণ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রবিবারের দুর্ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিমান বিধ্বস্তের কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত সংকট কিংবা মানুষের ভুলের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান নির্মাণকারী এই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই মডেলের ৩৭১টি বিমানের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে তারা।

এর আগে নিরাপত্তা ইস্যুতে বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান চলাচল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশ বিমানটির কার্যক্রম স্থগিত করলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই পথে হাটছিলো না। পরে মার্কিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের পর এই তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। আমরা হয়তো দেরী করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। হয়তো তাও নিতে পারতাম। তবে এই সিদ্ধান্তই প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে আমাদের। মার্কিনিসহ সারা বিশ্বের মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের সঙ্গে এক হয়ে বোয়িং বিমানের তদন্ত করছে বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ড্যান এলওয়েল বলেন, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সও দুর্ঘটনার আগে লায়ন এয়ার ফ্লাইটের মতো আচরণ শুরু করে। এই তথ্য উদ্ধারের পর সবার কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ৭৩৭ ম্যাক্স এর নিরাপত্তার ব্যাপারে তাদের পূর্ণ আস্থা আছে। তবে এফএএ ও জাতয়ি পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট ডেনিস মুলেনবার্গ বলেন,‘আমরা পদক্ষেপকে সমর্থন করছি। এই ‍দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ককারীদের সঙ্গে আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত। আমরা এমন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিতে চাই যেন ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য