সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে এম্বুলেন্স নেইঃ ভোগান্তিতে কর্মীরামো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত রেলওয়ে হাসপাতালের এম্বুলেন্স নেই দীর্ঘ প্রায় ১ বছর যাবত। এর ফলে রেলকর্মীরা জরুরী প্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরের এম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ রেলকর্মীরা বার বার বলা সত্বেও কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। একদিকে এম্বুলেন্স নেই অন্যদিকে চিকিৎসকসহ সেবাকর্মী সংকট। যার কারণে হাসপাতালে আসা রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য বাইরে থেকে এম্বুলেন্স সংগ্রহ করে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচ সহ নানা জটিলতায় পড়ছে রেলকর্মীরা। এর ফলে হাসপাতালটি দিন দিন নিজেই রোগীতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

এ নিয়ে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ৮২ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে হাসপাতাল। কিন্তু এখানে চিকিৎসা সেবা প্রদানে নেই কোন আধুনিক সরঞ্জাম ও যথাযথ চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য কর্মী। অনেক দিন থেকে এ অবস্থা বিরাজ করলেও চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়ন করা সহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা হচ্ছেনা।

এমনকি পূর্ব থেকে যেটুকু সুযোগ সুবিধা ছিল তাও ক্রমেই কমে যাচ্ছে। জরুরী কোন রোগী আসলে তাদের গুরুত্বর অবস্থার ক্ষেত্রে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় এম্বুলেন্সটিও দীর্ঘ প্রায় ১ বছর যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এর ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে কর্মচারীদের। বিশেষ করে রেলওয়ে কারখানায় কোন দূর্ঘটনায় পতিত হলে আহত কর্মচারীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা অন্য কোন হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালের এম্বুলেন্স থাকলে বিনা খরচে যাতায়াত করা যেত। কিন্তু তা নষ্ট হওয়ায় এখন এক হাজার ৫ শ’ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে এক্ষেত্রে। যা নি¤œ বেতনে চাকুরী করা রেল কর্মচারীদের জন্য অনেক ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য অতিদ্রুত একটি এম্বুলেন্স প্রয়োজন। তা না হলে ভোগান্তি কমবেনা।

বিশেষ করে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও এম্বুলেন্স না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের বহন করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। যা রোগীসহ হাসপাতাল কর্মীদের জন্যও ভোগান্তির বলে জানান কয়েকজন রোগী।

সরেজমিনে রেলওয়ে হাসপাতালে গেলে এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডা. শামীম আরা জানান, এক বছর ধরে এম্বুলেন্স নেই। আগে যে এম্বুলেন্সটি ছিল তা অকেজো হয়ে পড়ায় কনডেম ঘোষণা করা হয়। নতুন করে একটি এম্বুলেন্স বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার চিঠি দিয়েও সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছেনা। ফলে গুরুত্বর রোগীদের নিয়ে আমরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য