জমু-কাশ্মির বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল না হওয়ায় ক্ষোভভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ওমর আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে তিনি পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

গতকাল (রোববার) ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও প্রত্যাশামত জম্মু-কাশ্মিরে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষিত না হওয়ায় সেখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা বলেন, কাশ্মিরে লোকসভা নির্বাচন হলেও এখনই বিধানসভা ভোট হচ্ছে না। সম্প্রতিক সহিংসতার কারণে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য এসেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভাব রয়েছে।

ওই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ওমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, ১৯৯৬ সালের পর থেকে এই প্রথম জম্মু ও কাশ্মিরে সময়ে বিধানসভা নির্বাচন হল না। প্রধানমন্ত্রী মোদির শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রশংসা করার আগে এটা মাথায় রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদি পাকিস্তানের কাছে, সন্ত্রাসীদের কাছে ও হুররিয়াতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মোদি সাহেব, ভালোই করেছেন। ৫৬ ইঞ্চির ছাতি ব্যর্থ। লোকসভা, রাজ্যসভা ও সম্প্রতি দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তার কী হল? তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মিরে একযোগে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট করানোর জন্য বাহিনীর অভাব হবে না।

কঠোর নিন্দার সুরে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, সময়মতো বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে না রাজ্যে। বালাকোট বা উরি কেবল দেশের সুরক্ষার উদাহরণ নয়। দেশবিরোধী শক্তির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ লজ্জার!

জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির মতে, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের হাতে রাজ্যের শাসনভার রাখা ঠিক নয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

মেহেবুবা বলেন, ‘ওই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় সরকারের কুমতলব রয়েছে। মানুষকে সরকার নির্বাচন করার অধিকার না দেয়া গণতন্ত্রের মূল ধারণার বিরোধী। মানুষের থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার কৌশল। নিজেদের গোপন অ্যাজেন্ডা কার্যকর করার জন্য সময় নেয়া হচ্ছে।’

অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মিরে কংগ্রেসের সভাপতি গুলাম আহমেদ মীর বলেন, ‘রাজ্য সামলানোর দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের লম্বা-চওড়া দাবি যে কতটা ফাঁপা তা প্রমাণ হয়ে গেল।’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ও রাজ্যের বিধায়ক ইউসুফ তারিগামী নির্বাচন কমিশনের সাফাইতে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘নিরাপত্তার সঙ্কট হলে এই সময়েই রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো কী করে? গভর্নর কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, যে রাজ্যে পৌর নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাহলে বিধানসভা ভোট না করানোর কী যুক্তি আছে?’

রাজ্যে বিগত নয় মাস ধরে নির্বাচিত সরকার নেই। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায় সব দল নির্দিষ্ট মেয়াদে লোকসভার সঙ্গেই বিধানসভা ভোট করানোর দাবি জানিয়েছিল সেকথাও উল্লেখ করেছেন জম্মু-কাশ্মিরের সিপিএম নেতা ও বিধায়ক ইউসুফ তারিগামী।

বিরোধীদের দাবি, আসলে রাজ্যে গভর্নরের শাসন বজায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার দমননীতি চালিয়ে যেতে চায়। গতবছর জুনে পিডিপি’র সঙ্গে বিজেপি জোট ভেঙে দিলে রাজ্যে পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার পড়ে যায়। তারপর থেকে সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন রয়েছে।
– খবর পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য