ভেনেজুয়েলা বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাটেনি, বিক্ষোভের প্রস্তুতিসরকারপন্থি ও বিরোধীদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভের আগে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

App DinajpurNews Gif

শুক্রবার রাজধানী কারাকাস ও বেশকিছু এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলেও এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এখনো অন্ধকারে।

গুরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার দেশটির ২৩টি প্রদেশের ১৫টিই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এ কেন্দ্র থেকেই ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কয়েক দশকের মধ্যে লাতিনের দেশটিতে দেখা দেওয়া সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিরোধীদের দায় দিয়েছেন।

তাদের ‘সৃষ্ট নাশকতাতেই’ গুরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে বলেও অভিযোগ তার।

নাশকতার পেছনে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাত আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগুয়েজ।

সাইবার হামলার কারণে গুরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা গুইদো বলছেন, ভেনেজুয়েলাকে অন্ধকারের হাত থেকে মুক্ত করতে ‘অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখা, দুর্নীতিগ্রস্ত’ মাদুরো প্রশাসনের পতন ঘটাতে হবে।

বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাক আউটের’ কারণে ভেনেজুয়েলার হাসপাতালগুলোতে দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার কৃত্রিম যন্ত্র রেসপিরেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাধীন এক তরুণীর মৃত্যুর খবরও দিয়েছে তারা।

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে শুক্রবার ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ অফিস-আদালত ও স্কুল বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি।

টানা বিভ্রাটে কারাকাসের একটি শিশু হাসপাতালের জেনারেটর অকার্যকর হয়ে পড়লে হাসপাতালটির কর্মীরা মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়েই রাতভর কাজ চালান।

“শিশুরা খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল,” বলেছেন এক অভিভাবক।

গুইদো বলছেন, বছরের পর বছর বিনিয়োগের অভাব ও দুর্নীতিই ভয়াবহ এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। শনিবারের বিক্ষোভে এ পরিস্থিতির জবাব দেয়ারও আহ্বান জানান এ ‘স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট’।

শনিবারের বিক্ষোভে দুই পক্ষেরই লাখো সমর্থক রাস্তায় নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধসে পড়া অর্থনীতির ভেনেজুয়েলায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়া এখন খুবই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি দেশটির ৩০ লাখেরও বেশি নাগরিককে দেশ ছেড়ে পালাতেও উদ্বুদ্ধ করেছে।

সমালোচকরা বলছেন, দেশটির দুর্নীতি ও বিনিয়োগ ঘাটতিই বিদ্যুৎ গ্রিডের কাজে সমস্যা তৈরি করছে। অন্যদিকে মাদুরোর দাবি, রাজনৈতিক দুস্কৃতকারীরাই সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড করে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় রাজধানী কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার ২৩টি প্রদেশের ১৫টিই বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও টুইটার ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক একে ‘জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এর আগে ২০০৮ ও ২০১৩ সালেও ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল। দুই বারই ছয় ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সরকার বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য