ইয়েমেনে প্রতি সপ্তাহে ১০০ বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেগৃহযুদ্ধ কবলিত ইয়েমেনে গত বছর প্রতিসপ্তাহে প্রায় একশো মানুষ হতাহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে এক পঞ্চমাংশই শিশু। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে দেশটিতে চার হাজার আটশো বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। এই সময়ে ৪১০ শিশু নিহত ও ৫৪২ শিশু আহত হয়েছে। উন্মুক্ত সূত্র থেকে সংগৃহিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর।

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উৎখাত করে সিরিয়ার রাজধানী সানার দখল নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। রিয়াদে নির্বাসিত হাদিকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশের জোট। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে লাখ লাখ ইয়েমেনি নাগরিক। হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোবাইদাহ। শহরটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সৌদি জোট গতবছর সেখানে হামলা জোরালো করে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে হতাহতের ঘটনার অর্ধেকই ঘটেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হোবাইদায়। ইয়েমেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরীতে গত বছর হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী হতাহত বেসামরিক মানুষদের ৩০ শতাংশই নিজ বাড়িতেই আঘাত পেয়েছেন। এছাড়াও রাস্তায় চলাচল ও খামারে কাজ করার সময়ও হতাহত হয়েছেন অনেকে।

ইউএনএইচসিআরের সহকারি হাইকমিশনার ভলকার টার্ক বলেন, ‘ইয়েমেন সংঘাতের কতোটা মানবিক মূল্য চুকাতে হয়েছে তা প্রতিফলিত হয়েছে এই প্রতিবেদনে’। তিনি বলেন, ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষেরা নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং মৌলিক অধিকার প্রশ্নে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রাত্যহিক সহিংসতার মধ্যে থেকে অনেকেই চিরস্থায়ী ভয় ও দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসে বাধ্য হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য