বিরলে রাজমনী সার্কাস ও মেলায় মা-বোনদের উপচেপড়া ভীড় বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ যখন গ্রাম বাংলা থেকে যাত্রা, পালাগান এবং সার্কাসের মতো বিনোদনের মাধ্যম গুলি হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বাজনাহার-ধুকুরঝাড়ী পশু মেলায় আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রম ধর্মী সার্কাস। যেখানে পল্লী গ্রামের মানুষ কর্ম ব্যস্ততা জীবনের মাঝে ফিরে পেয়েছেন বিনোদনের সুষ্ঠ খোরাক। যে বিনোদনের মধ্যে নেই কোন অশ্লিলতা।

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রুচি বদলেছে। এর আগে প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে মেলা গুলিতে যোগ হয়েছে যাত্রা ও সার্কাসের নামে অশালিন নাজ-গান আর জুয়া এবং মাদকের চড়াছড়ি। মেলা গুলিতে স্ব-পরিবারে আনন্দ উপভোগ করার জায়গা হতোনা। আর এখন ভাই বোন ও কাকা কাকীদের সাথে নিয়ে মেলা দেখার পরিবেশ তৈরী করেছে মেলা কমিটি।

কিন্তু দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ধামইড় ইউনিয়নের ধুকুরঝাড়ী পশু মেলায় বগুড়া থেকে আগত ঐতিয্যবাহী রাজমনী সার্কাসে নেই কোন অশ্লিল এর ছোয়া। তাই এই মেলার সার্কাসে পুরুষ থেকে নারী দর্শকের সংখ্যা বেশী। বহু দিন পর যেন মেলার পরিবেশে ফিরে এসেছে। এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাই তারা স্ব-পরিবারে উপভোগ করেছেন সার্কাস সহ নানান খেলা। তারা খুবেই আনন্তিত।

মেলার সার্কাসে রয়েছেন প্রায় শতাধীক জন খেলোয়ার। যেখানে রয়েছে শিশু থেকে নানা বয়সী খেলোয়ার। শারীরিক কষরত, ভারসাম্য ফ্লাইং রাইড, ঝুলন্ত-উড়ন্ত নানা ধরণের খেলা। তারের উপর দিয়ে হেটে যাওয়া, খাচার ভিতর মটর সাইকেল চালনা করা সহ বিভিন্ন শ্বাষ রুদ্ধকর খেলা দেখিয়ে থাকে খেলোয়াররা। আরো রয়েছে হাতি, ঘোড়া, গাধা আর রাম ছাগল সহ নানা জীব-জন্তুর উপোভোগ করার মতো সুন্দর সুন্দর খেলা। এখানে তারকা শিল্পীরা এসে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে, অভিনয় করে এবং গান গেয়ে শোনায়।

যা দর্শকদের আনন্দ দেয়। কর্ম ব্যস্ততম জীবনে একটু বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। মানুষ বিনোদনের মাধ্যমে ফিরে পায় তার চালিকা শক্তি। প্রায় ৭০ বছর থেকে বছরের পুরাতন এই মেলা। দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ০৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ধুকুরঝাড়ী নামক স্থানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলা সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করার জন্য মেলা কমিটি ও সার্কাস কর্তপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন। আরো কামনা করেছেন একটি সুন্দর ও সুষ্ঠ অশ্লিলতা বিহীন পরিবেশ।

মেলা কমিটির সভাপতি ও অত্র ধামইড় ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দীন জানান, আমরা সকলের সহযোগীতায় মিলে মিশে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিয্য ফিরিয়ে আনতে এ মেলার আয়োজন করেছি। যাতে নেই কোন খারাব কিছু। রয়েছে শুধু মাত্র সকলে মিলে একসাথে দেখার মতো বিনোদন।

অত্র কমিটির সহ-সভাপতি ও ধামইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মেলায় অশ্লিলতাসহ মাদক, জুয়ার ছোড়া-ছুড়িকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে স্ব-পরিবারে মেলা দেখার ও বিনোদন উপভোগ করার মতো। একেবারেই ব্যাতিক্রমী আয়োজন রেখেছি এ মেলায়।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোমতাজ আলী বলেন, বাজনাহার-ধুকুরঝাড়ীর এ মেলা বহু পুরাতন ও ঐতিয্যবাহী। এ মেলা শুরু হলে ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবারে উৎসবের আমেজ ফিরে আসে। ধর্মীও উৎসব, ঈদ, কুরবানী, দুর্গা পুজার সময় যে ভাবে জামাই মেয়ে সহ আতœীরা বেরাতে আসে ঠিক তেমনী এ মেলার সময় প্রতিটি পরিবারে আতœীয়ের ধুম পরে যায়।

মেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল ইসলাম এবং কমিটির কোষাধক্ষ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম রিপন বলেন, এ মেলার অতিত ঐতিয্য রয়েছে। মেলা কমিটি ও এলাকার মানুষ এবং যুব সমাজ সকলে মিলে মিশে মাস ব্যাপী এ মেলা কোন প্রকার হট্রগোল ছাড়াই দ্বীর্ঘ দিন যাবৎ শান্তি শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে হয়ে আসছে এবং এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য