জার্মানির রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার ভেনেজুয়েলারঅভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে কারাকাসে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ডেনিয়েল ক্রিনারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ক্রিনারও সোমবার ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোর দেশে ফিরে আসায় সহযোগিতা করেছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।।

গুইদোকে ‘ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের তালিকায় জার্মানিও আছে।

কারাকাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়ায় বার্লিন বলেছে, ক্রিনারকে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত কেবল উত্তেজনাই বাড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ আরও ৭৭ জনের ভিসা সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটন গত শুক্রবার দেশটির মাদুরোঘনিষ্ঠ ৪৯ কর্মকর্তার ভিসা সুবিধা বাতিল করেছিল।

নতুন যাদের ভিসা সুবিধা তুলে নেওয়া হল তাদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত চাপের মুখেও বহাল তবিয়তেই ক্ষমতায় আছেন মাদুরো। ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ সাহায্য নিয়ে গুইদো তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার ভেনেজুয়েলার এ দু’পক্ষই পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

বুধবার সকালে মাদুরোর প্রশাসন মার্কিন সাংবাদিক কোডি ওয়েডল ও তার ভেনেজুয়েলান সহকারীকে আটক করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করা কোডিকে বুধবার বিকালেই ছেড়ে দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কারাকাসে কাজ করা স্থানীয় ও বিদেশি সাংবাদিকদের কয়েকজনকে ভেনেজুয়েলার সরকার আটক করেছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি। এদের অনেককেই ছেড়ে দেওয়া ও দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বুধবার ভেনেজুয়েলার সরকার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর’ অভিযোগে জার্মান রাষ্ট্রদূত ক্রিনারকে ‘পার্সন নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে। বিরোধীদলীয় নেতা গুইদোকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে যাওয়ার কারণেই ক্রিনারের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করে ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন গুইদো। দেশে ফেরার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

যদিও সোমবার কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিরোধীদলীয় নেতা নির্বিঘ্নেই ইমিগ্রেশন পার হয়েছিলেন। এসময় তাকে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সমর্থকতা স্বাগত জানান এবং পাহারা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের করে আনেন।

গুইদোকে স্বাগত জানানো কূটনীতিকদের মধ্যে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, একুয়েডর, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা থাকলেও কারাকাসের নিশানায় পড়েছেন কেবল ক্রিনারই।

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতার দেশে প্রত্যাবর্তনের আগে তাকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও লাতিন আমেরিকার অনেকগুলো দেশই সতর্ক করেছিল। গুইদোর অবতরণের আগে ক্রিনার বলেছিলেন, তিনি এবং অন্যান্য কূটনীতিকরা ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সাহায্য করতে চান।

পরে টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে কারাকাসের জার্মানির দূতাবাস জানায়, “হুয়ান গুইদোর প্রত্যাবর্তন ভেনেজুয়েলার সংকট নিরসনের শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একধাপ অগ্রগতি।”

প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ‘বিরোধীদের উগ্রপন্থী অংশের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে জড়িত বিদেশি কূটনীতিকের কার্যক্রম’ মেনে নেবে না।

জার্মানির আগে গত দুই বছরে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও কানাডার শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য