নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব দিনাজপুরদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বেড়েছে। দীর্ঘদিন আগেও দিনাজপুর শহরে পাটের ব্যাগ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনে পাটের সবকিছুই পাওয়া যেত। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধুর কর্মকর্তার কারণে পাটশিল্পকে অবজ্ঞা করে প্লাষ্টিক তথা পলিথিন ব্যবহার প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছর দিনাজপুরে পাট শিল্পের মেলা হলেও পাটের প্রচার রয়েছে সংকীর্ণতায়। ফলে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করছে জনসাধারণ। এতে করে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সহ পরিবেশন দুষণ এবং মারাত্মক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

দিনাজপুর জুড়ে আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন। হাট-বাজার সয়লাব হয়ে গেছে এ সব পলিথিনে। প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন-শপিংব্যাগ। নিষিদ্ধ পলিথিন শপিংব্যাগে ১৩টি উপজেলার গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার এখন সয়লাব হয়ে গেলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় প্রকাশ্যে বিক্রিও ব্যবহার হচ্ছে এসব পলিথিন শপিংব্যাগ। জেলা ও উপজেলার আনাচে-কানাচে মিলছে বেআইনি এসব পলিথিন। এতে চরম ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ ও প্রাণীকূলের। অথচ জেলা প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে- কি যেন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এমন মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞ মহল। কোথায় নেই পলিথিন? অবাধ পলিথিনের ব্যবহারের কারণে এখন আর কেউ চট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহারই করছেন না। এ ছাড়া সরকারিভাবেও এখন আর পলিথিনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নেই কোনো প্রচার-প্রচারণা।

জানা যায়, ১৯৮২ সালের দিকে শুরু হয় পলিথিন শপিং ব্যাগের প্রচলন। ব্যবহারে সুবিধা এবং স্বল্পমূল্যের কারণে দ্রুত ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় পলিথিন ব্যাগ। ব্যবহার যেমন বাড়তে থাকে তেমনি ধীরে ধীরে পলিথিন যে পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তা প্রকাশও হতে থাকে। এভাবেই সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়। ২০০১ সালের মার্চ মাস থেকে সারা দেশে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাত এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সরকার। দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, পলিথিন দীর্ঘদিনেও মাটির সাথে মিশে না বা পচে না। এর বিষক্রিয়ায় কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি কমিয়ে দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, পলিথিনের খাদ্যদ্রব্য মানুষের শরীরে নানা রোগ দেখা দেয়। এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

দিনাজপুরসহ সারা দেশে প্রকাশ্যে এখন চলছে এর ব্যাবহার। নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রিতে পরিবেশ অধিদফতরের ও যেন নেই কোনো মাথা ব্যথা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর নেয়া হচ্ছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। ইতোপূর্বের অভিযানও ক্ষুদ্র পরিসরে হওয়ায় মূল অপরাধীরা থেকে যায় সবসময়ই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব তো পড়ছেই, বাড়ছে পানিবদ্ধতা এবং জনস্বাস্থ্যের উপরও সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক হুমকি। পরিবেশ বান্ধব পাট গবেষণায় সরকারের ব্যাপক সাফল্য দেখালেও পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যকে এখনো পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য করা যায়নি বা এর ব্যাপক প্রচলনের ব্যবস্থাও করা যায়নি।

সারা দেশে পরিবেশ রক্ষাকল্পে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। প্রসঙ্গত. পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ১৯৯৮ সালে বন্যায় বলতে গেলে গোটা দেশেরই বিভিন্ন অঞ্চলের পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যন্ত হয়ে পড়ায় সরকার পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। অবশ্য ২০০২ সালে সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার বলতে গেলে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। তারপর আবার ২০০৬ সনের শেষের দিকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় থেকেই সুযোগ নেয় অসাধু পলিথিন ব্যবসায়ীরা। সরকারের শিথিল নজরদারির সুযোগে আবারো অত্যন্ত দাপটের সাথেই আবির্ভাব ঘটে পলিথিনের।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পলিথিনের জন্য বাড়তি কোনো টাকা-পয়সাও দিতে হয় না ক্রেতাকে। আর এ ভাবেই প্রত্যেক দোকান থেকে ক্রেতাদের দেয়া হচ্ছে ফ্রি পলিথিনের ব্যাগ। সচেতন ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, পরিবেশ বাঁচাতে অবিলম্বে পলিথিন ব্যাগের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য পাট-কাপড় ও কাগজের ব্যাগ উদ্ভাবন এবং ব্যবহারে সর্ব শ্রেণি পেশার মানুষকে উৎসাহিত করে পলিথিন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য