অধিক লাভ হওয়ায় দিনাজপুরে কলার আবাদ বাড়ছেদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে উচ্চ ফলনশীল কলার আবাদ বাড়ছে। অনেকে কলা আবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। চাষীরা জানান, উচ্চফলনশীল কলা চাষে খরচ কম এবং লাভজনকও। পরিচর্যায় শ্রম-সময় কম লাগে। ফলে জেলায় এ কলার আবাদ বাড়ছে।

অনেক ভূমিহীন কৃষক জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সদরসহ ১৩ উপজেলায় কলার আবাদ বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে মেহের সাগর, সাগর, সবরি ও সুন্দরী (মালভোগ) জাতের চাষ বেশি হচ্ছে আর দেশী জাতের মধ্যে চিনিচম্পা।

কলা আবাদ লাভবান হওয়ায় ভালো জাতের কলা উৎপাদনে চাষী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরাতে জানা যায়, চলতি বছর এক হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে কলা চাষ হয়েছে। আর চাষীদের অধিকাংশই ভূমিহীন কৃষক।

তারা পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করছেন। তাছাড়া জেলার কিছু অঞ্চলের জমি কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলনও পাওয়া যাচ্ছে। চারা রোপণের তিন-চার মাসের মধ্যে থোড় আসছে। প্রতি কাঁদিতে ছয় থেকে আটটি ছড়া কলা পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার দশমাইল মোড়, তের মাইল গড়েয়া, রানীরবন্দরে কলা বিক্রির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে।

এসব বাজারে দিনে ২০-২৫ ট্রাক কলা বিক্রি হয়। আর ছোট ও উপজেলা পর্যায়ে বাহাদুর বাজার, এন এ মার্কেট, চক বাজার, শিকদার হাট, রেলবাজার এবং গোপালগঞ্জ বাজারেও কেনাবেচা ভালো। জেলায় উৎপাদিত কলা এসব পাইকারি বাজারের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ হচ্ছে।

কলাচাষী কুদ্দুস জানান, তিনি পর পর কয়েক বছর কলা চাষ করছেন। কলা চাষে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করলে ভালো লাভ পাওয়া যায়। প্রতি একরে উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি হবে ৭০ হাজার টাকা। অনেক ভূমিহীন চাষী জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

তিনি আরো জানান, তারা উৎপাদিত কলা মাঠ থেকে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে বাজারজাত করার পরিবহন খরচ লাগছে না। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় মাঠ থেকে অপরিপক্ব কলা কেটে মাটির ঘর বানিয়ে তার মধ্যে মজুদ করে।

পরে কেরোসিন চুলা জ্বালিয়ে ধোঁয়া দিয়ে অথবা কেমিক্যাল স্প্রে করে কলা পাকায় তারা। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় চলতি বছরে ১ হাজার ১১৬ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল কলার আবাদ হয়েছে। প্রতি একরে ৯০০ কাঁদি কলা পাওয়া যাবে।

একরপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। প্রতি কাঁদি বিক্রি হবে ১০০-১২০ টাকা। প্রতি একরে উৎপাদিত কলা ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। তিনি আরো জানান, খরচের তুলনায় দ্বিগুণ আয় হওয়ায় জেলার চাষীরা কলা আবাদে ঝুঁকেছেন। আর সাধারণ চাষীরা স্প্রে দিয়ে কলা পাকান না। ফসল বিক্রি ও বাইরে সরবরাহের পরে এটা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য