লালমনিরহাটে ফুটপাতেই বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার!আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ফুটপাতেই বিক্রয় হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রলসহ দাহ্য পদার্থ। আইন কানুন’র তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানির এ ব্যবসা। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নেই প্রতিকারের ব্যবস্থা। জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার কারণে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

নীতিমালা লঙ্ঘন করে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে উপজেলার শতাধিক দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার। এসব দোকানের মধ্যে কারও কাছে আবার ট্রেড লাইসেন্সও নেই। ফলে যেকোন সময় বিস্ফোরণ ও বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এলপি গ্যাস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদ আইন অনুসরণ করছে না। ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেও ১০টির বেশি সিলিন্ডারে আবশ্যকীয় সনদ তাদের নেই।

সড়েজমিনে দেখা গেছে, মুদি দোকান, শো-রুম, কস্মেটিকস্সহ বিভিন্ন দোকান মালিকরা খোলামেলা পরিবেশে পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এছাড়া ওই সব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও অধিকাংশ সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এলপি গ্যাস, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাত করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস সিলিন্ডার বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের প্রায় ব্যবসায়ীর এলপি গ্যাস বিক্রির বৈধ লাইসেন্স নেই। আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা দোকানে ও গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনের ফুটপাতে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে বিক্রি করছেন। এর ফলে যে কোন মুহূর্তে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা সংক্রান্ত লাইলেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রয়ের নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রয়ের লাইসেন্স ছাড়া কোন দোকানে দাহ্য পদার্থ বিক্রয় করা যাবে না।

খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অবগত। তার পরও তদারকির অভাবে ঝুঁকি জেনেও তারা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিপণন কৌশলে প্ররোচিত হয়েও তারা আইন অনুসরণ থেকে বিরত আছেন।

হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের অফিসার ইনচার্জ মতিয়ার রহমান জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ করলে তিন বছরের কারাদণ্ড, বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দ্বণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে যারা দাহ্য পদার্থ বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অমরা অভিযান চালাবো।

এ প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল আমিন জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নাম মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে যেসব গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্ররের দোকান রয়েছে, খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে এসব দোকান বন্ধ করা হবে এবং যাদের কাগজ পত্র নেই তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য