গাইবান্ধায় জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের কিশামত বালুয়া এলাকায় রেলওয়ে ভেড়ামারা ব্রীজ সংলগ্ন পূর্বপার্শ্বে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের গা ঘেঁষে অবৈধভাবে জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে দীর্ঘদিন ধরে তা ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বিক্রি করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল।

মাটি উত্তোরনের ফলে রেলওয়ে ব্রীজটি যেমন হুমকির মুখে পড়েছে তেমনি ঘাঘট নদীর বামতীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধও ধসে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। এব্যাপারে স্থানীয় লোকজন প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি। এসব মাটি ট্রাক্টর ও ট্রলি দিয়ে অন্যান্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁধের রাস্তা ভেঙ্গে চুরে চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে।

ওই এলাকার জনৈক রাজা মিয়ার জমি লীজ নিয়ে মাটি ব্যবসায়ি আলম মিয়া, একরামুল হক একরা সহ অন্যান্যরা প্রকাশে রেলপথসহ ভেড়ামারা ব্রীজ ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের গা ঘেঁষে গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি উত্তোলন করছে। এসব মাটি ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহন দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব মাটি পার্শ্ববর্তী ইটভাটা এবং বাড়ি ঘর নির্মাণের জন্য বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাটি ব্যবসায়িরা। এব্যাপারে জমির মালিক রাজা মিয়া বলেন, জমির মাটি বিক্রি করেছি। এখন মাটি ব্যবসায়িরা কিভাবে মাটি উত্তোলন করছে, তা আমার দেখার বিষয় নয়।

এদিকে সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার রওনক জাহান জানান, ওই এলাকায় মাটি উত্তোলন করে বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন থেকে কতিপয় মাটি ব্যবসায়িরা মাটি তুলছে। তিনি বলেন, এর আগে মাটি বহনকারি ট্রাক্টর এবং ট্রলি মালিকদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও কোন সমাধান হয়নি।

প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও মাটি উত্তোলন বন্ধ করা যায়নি। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পর্যন্ত বসানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েও তাদেরকে নিয়ন্ত্রনে আনা যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য