নারী দিবসের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েরামাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন উপলক্ষে সদর উপজেলার পূর্ব আরাজী চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের প্রস্তুতি চলছে। দিবসটি পালনে বিভিন্ন বিষয়ে সভা করেছে স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) জিন্নাহ, শরীরচর্চা শিক্ষক সত্য মোহন রায়, এমকেপির সদস্য আবুসহ মেয়ে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনে ওই দিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মেয়েদের অংশগ্রহনে বাইসাইকেল র‌্যালি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বাই সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন রকম কসরত করে বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে একাই সাইকেল চালানো, হাত-পা ছেড়ে সাইকেল চালানো, ২-৪ জন নিয়ে সাইকেল চালানোসহ বিভিন্ন কসরত রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীর তিন চতুথাংশ বালিকা প্রতিদিন বাই সাইকেল নিয়ে যাতায়ত করে।

ঘুরছে প্যাডেল। দুরন্ত গতিতে চলছে সাইকেল। একজন নয়, দু’জন নয় দল বেঁধে সাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে বালিকারা। আবার একই ভাবে বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থীরা। সকাল, দুপুর বা বিকেল সদর উপজেলার পূর্ব আরাজী চন্ডিপুর বিদ্যালয়ের আশে পাশের এলাকায় এমন দৃশ্য প্রতিনিয়ত দেখা যায়। পরিবারেরও থাকে না কোন বাধ্যবাধকতা। গত কয়েক বছর আগেও যা ছিল সমাজের নাক ছিটকানোর ব্যাপার-স্যাপার, এখন তা নারী অগ্রগতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওদের বলা হয় সাইকেল বালিকা।

ওরা বাড়ি থেকে প্রতিদিন ৮-১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে যাতয়াত করে থাকে। কোন প্রকার ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক কুসংস্কার তাদের রুখতে পারেনি। সমাজের অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে বুকে সাহস আর দল বেঁধে ছুটে চলছে আনন্দের সাথে। মনে অনেক ধরনের স্বপ্ন আর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য ভবিষ্যতের জন্য তাদের ছুটে চলা।

উল্লেখ্য, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী কারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১শ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলন থেকে কারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালন শুরু হয়। পরে ধিরে ধিরে বিভিন্ন দেশও এগিয়ে আসে। পরবর্তিতে বিভিন্ন দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হাওয়া শুরু হয়। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে দিবসটি পালন শুরু হয়। পরবর্তিতে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ৮মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের আহবান জানান জাতিসংঘ। এরপর থকে সারা পৃথিবী জুড়ে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য