বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক দু’টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ ক্লু বের করে হত্যাকারীদের আটক করেছে। আটককৃতরা হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ এ টি এম গোলাম রসুল জানান, ১ মার্চ শুক্রবার সকালে দিনাজপুর সদর উপজেলার বালুয়াডাঙ্গা (হঠাৎপাড়া) এলাকার সামসুল আলম মহুরীর পুত্র জাকির হোসেন (১৮) এর লাশ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বিরলের বিজোড়া ইউপি’র কাঞ্চন রেলব্রীজ সংলগ্ন এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়। লাশের ময়না তদন্ত দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সম্পন্নের পর পিতার নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহতর পিতা শামসুল আলম বাদী হয়ে ঐ দিনই বিরল থানায় মামলা নং ০১ দায়ের করে। থানার অফিসার ইনচার্জ এ টি এম গোলাম রসুল ঘটনার দিনই এজাহার নামীয় ১ নং আসামী শুকুরুকে ও পরদিন ২ মার্চ শনিবার এজাহার নামীয় ৮নং আসামী নুরু কে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

তিনি আরো জানান, আলামতের সূত্র ধরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বিপিএম এর নেতুৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুশান্ত সরকার পিপিএম ও ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল হক প্রধান সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৪ মার্চ সোমবার বালুয়াডাঙ্গা (নতুনপাড়া) এলাকার আজিজুল হক এর পুত্র লায়লাতুল বরাত (৩৪)কে আটক করলে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে জাকিরকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে সে। ৫ মার্চ মঙ্গলবার লায়লাতুল বরাত দিনাজপুরে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করে বিজ্ঞ বিচারকের নিকট জবানবন্দী দেয়।

উল্লেখ্য, বিরলে যুবক রুবেল হত্যার এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাকির হোসেন নামের অপর এক যুবককে হত্যার ঘটনা ঘটে। রুবেল হত্যা ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ হত্যার ক্ল বের করে। শুকুরু নামের একজনকে লাশ উদ্ধারের দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে নুরুকে আটক করে তাঁদের নিকট প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আটককৃতরা বিজ্ঞ বিচারকের নিকট হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দী প্রদান করেছে।

এর আগে রুবেল হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোবাইল ট্রাকিং ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে ২৪ ফের্রুয়ারি ২০১৯ ভোর রাত্রে ঘটনার সাথে জড়িত ভান্ডারা ইউপি’র বেতুড়া গ্রামের হাসান আলীর পুত্র কারিমুল ইসলাম (২৬) এবং একই গ্রামের পুকুর পাড় এলাকার সইরদ্দির নাতি ওবাইদুর রহমান বাবু (২০) কে আটক করে থানা পুলিশ।

উপজেলার ভান্ডারা ইউপি’র বেতুড়া (পুকুরপাড়) গ্রামের আনোয়ার আলীর পুত্র হত্যার শিকার রুবেল (২২) আসামী কারিমুল ও বাবুকে ভারতের দিল্লিতে কাজ করার জন্য নিয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু রুবেল আজকাল করে সময় পার করতে থাকে। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিকল্পিত ভাবে আসামী কারিমুল ও বাবু দু’জনে রুবেলকে কৌশলে বাড়ীর পাশে একটি সরিষা ক্ষেতে ডেকে রশি দিয়ে রুবেলের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে দুই হাত চেপে ধরে এবং পেটে পা দিয়ে চাপ দিয়ে হত্যা করে।

হত্যাকারীরা গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী আইনুলের বাড়ীর বাইরে থাকা পয়নিস্কাষণের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা তুলে রুবেলকে সেখানে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকলে বাড়ীর মালিক আইনুল সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা সড়ানো দেখে কাছে গিয়ে ভিতরে লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আশ-পাশের লোকজন ও রুবেলের পরিবারের লোকজন ছুটে এসে লাশ সনাক্ত করে।

পুলিশ রুবেলের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। ঘটনায় হত্যার শিকার রুবেলের মা মারুফা বেগম সংশ্লিষ্ট ধারায় বিরল থানায় মামলা নং ২২ দায়ের করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য