দিনাজপুরে উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগদিনাজপুর সংবাদাতাঃ ভাটায় মাটির চাহিদা মেটাতে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় তিন ফসলি জমির ‘টপ সয়েল’ হিসেবে পরিচিত উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভাটা মালিকরা বলে জানা গেছে। মানছেন না কোনো আইন।

জানা গেছে, জেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৫৩ হেক্টর এবং ভাটা রয়েছে ২৩৩টি। ভাটাগুলোতে ১ কোটি হিসাবে প্রতি মৌসুমে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ২৩৩ কোটি পিস ইট। এই ইট উৎপাদনের জন্য পোড়ানো হচ্ছে ২৩৩ কোটি সিএফটিরও বেশি মাটি। এই মাটি আসছে কৃষিজমি থেকে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে কিছু সংখ্যক ভাটা মালিকসহ মাটি সরবরাহকারী এক শ্রেণির দালালচক্র মাটি কিনছেন দেদারসে।

কৃষিজমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এ উল্লেখ রয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য আইনে যাহাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসাবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদ- বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে জেলায় অনুমোদিত ভাটার সংখ্যা ২৩৩টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮টি, বিরল উপজেলায় ১৯টি, বোচাগঞ্জে ১৯টি, কাহারোলে ছয়টি, বীরগঞ্জে ২৪টি, খানসামায় ছয়টি, চিরিরবন্দরে ৩৫টি, পার্বতীপুরে ৩৪টি, ফুলবাড়ীতে ১২টি, বিরামপুরে ১০টি, হাকিমপুরে একটি, নবাবগঞ্জে ২৯টি ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১০টি ভাটা রয়েছে। এ ছাড়া চলছে অনুমোদনহীন অনেক ভাটা।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক গবেষনাগার দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মামুন আল আহসান চৌধুরী জানান, যে কোন উদ্ভিদের জন্য ১৬ প্রকার খাদ্য উপাদান তৈরি হয়। এর মধ্যে বাতাস থেকে আসে ৩ প্রকার আর মাটি থেকে আসে ১৩ প্রকার খাদ্য। দিনাজপুরে মাটিতে ৯ প্রকার খাদ্য উপাদানের সংকট রয়েছে।

যে সকল এলাকায় ইট ভাটা রয়েছে, সে এলাকায় একা আরো প্রকট। তিনি বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি উর্বর। এ মাটির সঙ্গে জৈব উপাদানের সম্পর্ক রয়েছে। ফসলি জমিতে ৫ শতাংশ জৈবসার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছে তার চেয়ে কম।

এই উর্বর মাটি তৈরি হতে অনেক বছর সময় লাগে। চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, ফসলি জমির মাটি এভাবে বিক্রি হয়ে ভাটায় চলে যেতে থাকলে ভবিষ্যতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য