দিনাজপুরে অতিরিক্ত অটোরিক্সা কারণে জনগণের ভোগান্তিদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর শহর এখন অতিরিক্ত অটোবাইক/ অটোরিক্সার কারণে জনগণের চলাফেরায় নার্ভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। যত্রতত্র যেখানে সেখানে অটো থামানোর ফলে বাড়ছে দুঘর্টনা। কোন নিয়মশৃঙ্খলাই মানছে না অটো চালকরা। এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক এবং পৌরসভা অটোর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যেভাবে অটোচালকদের নির্দেশনা ও রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে সেটিও মানছে না অটোচালকরা। সেই সাথে একটি অটো ইজি বাইকের একই রেজিস্ট্রেশন দিয়ে একাধিক অটো ইজি বাইক চলাচল করছে। ফলে দুর্ঘটনা আরো বেড়েছে। দিনাজপুরে অটো চালকদের বেশি ভাগ ড্রাইভিং এর কোন অভিজ্ঞতা নেই। তারা ইচ্ছেমত অটো চালিয়ে মানুষদের আহত করে চলেছে।

দিনাজপুর শহরে পৌরসভা লাইসেন্সকৃত যে সমস্ত অটো চলবে সেটি শুধু শহর চলবে গ্রাম কিংবা উপজেলায় প্রবেশ করবে না। আবার গ্রাম থেকে শহরে কোনো অটো প্রবেশ করবে না। কিন্তু বিধিবাম অটোবাইকগুলো ইচ্ছেমত শহরে কিংবা গ্রামে প্রবেশ করলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছেন। শুধু তাই নয় দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করছে অটোচালকরা। লোহার রড কিংবা স্পাত দিয়ে ডান দিকটা বন্ধ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ অটোচালকরা তা করছেন না কিংবা মানছেন না।

ফলে দুঘর্টনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। উল্লেখ্য যে, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সামনে মহিলা কলেজের একজন ছাত্রী অটোচাপায় মারা গেলে প্রশাসন এই আইন জারি করে। এরপরেও অটোচালকরা তা না মেনে তাদের খেয়াল খুশি মত শহরে যানজটের সৃষ্টি করছেন। এদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে অটো দাড় করানোর ফলে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতিসাধন হচ্ছে।

দিনাজপুর শহরে এখন অসহ্য যন্ত্রণার নাম ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে প্রায় ১৬-১৭ হাজার অটোরিকশা। এসব অটোযানের স্বল্প সংখ্যক বৈধতা থাকলেও দিন দিন বেড়ে চলেছে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা। প্রতিদিন যানটি রাস্তায় নামতে নিতে হয় না কোনো অনুমতি, ফলে শত বছরের পুরাতন প্রথম শ্রেণির দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট লেগেই থাকে।

ভুক্তভোগীরা জানায়, রাস্তার প্রশস্ততা কম ও অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে না চলা, যেখানে-সেখানে যাত্রী উঠানামা করার কারণে একদিকে বাড়ছে যানজট এবং অপরদিকে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বেশিরভাগ অটোরিকশায় সন্ধ্যার পর হেডলাইট জ্বলে না। জ্বলে না কোনো সিগন্যাল বাতি। এসব অটোরিকশা দিনাজপুর পৌরসভার ভাঙা সড়কে চলাচলের সময় যাত্রীদের উঠে যায় নাভিশ্বাস।

কিছুদিন আগেও পৌরসভার অনুমতিপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক অটোরিকশা ছাড়া শহরে চলতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আবার যে যার মতো চালাচ্ছে বাধা ছাড়াই। জানা গেছে, দিনাজপুর শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টির মত দোকান রয়েছে। প্রতিদিনই দোকান থেকে কমপক্ষে ৩-৪টি করে অটোরিকশা বিক্রি হয়। রিকশা শ্রমিক রফিক বলেন, আমরা পৌর ট্যাক্স দেই। আমাদের মোড়ে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডগুলো আর নেই। হয় বেদখল নয়তো অটোসহ বিভিন্ন যানবাহনের স্ট্যান্ড হয়েছে।

অটোচালক সিরাজুলসহ অনেকে বলেন, ‘মানুষের স্বল্প খরচে এবং স্বল্প সময়ে পৌঁছে দিতে অটো সার্ভিস চালু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া শহরে যেন কোনো অটোরিকশা চলতে দেওয়া না হয়।’ ভোগান্তির শিকার আলী আকবর, আব্বাস উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও পায়ে হেঁটে চলাচল করা যেত। কিন্তু এখন অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে পথচারীদের হেঁটে চলাই কষ্টকর।

অদক্ষ অটোচালকদের বেপরোয়া চলাচলে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বাহাদুর বাজার, লিলির মোড়, মর্ডাণ মোড়, সদর হাসপাতাল মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গী মোড়, ভুটি বাবুর মোড়, চারুবাবুর মোড়, মালদহপট্টি এলাকায় অনেক কিছু সময় তীব্র যানজটের কবলে পড়তে হয়। তবে এসব এলাকার যানজট নিরসনে বিকল্প পরিকল্পনা নিলে হয়তো সাধারণ মানুষ রেহাই পেত। দিনাজপুর পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চার হাজারের মত অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে।

তবে শহরের ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারিভাবে অটো চালানোর কোনো নির্দেশনা না থাকায় পৌরসভা কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য