জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ, কর্মীদের সম্পত্তি ক্রোক শুরুজম্মু ও কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দেশ অনুসারে দলের কর্মী ও নেতাদের সম্পত্তি জব্দ করা শুরু করেছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে দলের ২০০ জনেরও বেশি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাদের বাড়িঘরও সিল করে ফেলা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জামায়াতকে পাঁচ বছরের জন্য বেআইনি সংগঠন ঘোষণা করে। পুলওয়ামায় আত্মঘাতি হামলায় ৪০ জন জওয়ান নিহত হওয়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে নিরাপত্তা সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। এরপর জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান এবং সম্পত্তি সিল করার আদেশ জারি করেন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট।

ভারতের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বৃদ্ধির পিছনে এঁদের হাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে জম্মু-কাশ্মীরের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল- পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি) এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এই দলকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। পিডিপির প্রধান মেহবুব মুফতি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে সরকারের এত অস্বস্তি কেন? মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীগুলি আসলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে বিকৃত করে ফেলছে। বাস্তবে কাশ্মীরিদের জন্য নিস্বার্থভাবে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক আলি মোহাম্মদ সাগরও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তিনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য