পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধে বিপাকে বিমান যাত্রীরাভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও খণ্ড বিমান যুদ্ধের পর পাকিস্তানের নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে বিমান যাত্রীরা।

কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হওয়ায় এশিয়ার শহরগুলোতে অনেক বিমান যাত্রী আটকা পড়েছেন বলে খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।

যে সব এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তাদের মধ্যে থাই এয়ারওয়েজ, আমিরাটস ও কাতার এয়ারওয়েজ অন্যতম। এসব এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজগুলোর পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে ওড়ার সূচী ছিল।

এদের পাশাপাশি ইতিহাদ, ফ্লাইদুবাই, গাল্ফ এয়ার, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স ও এয়ার কানাডাও ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইগুলোকে ঘুর পথে গন্তেব্যে যেতে হয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্রাঙ্কফুর্টগামী একটি ফ্লাইট যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্তে তাদের প্রায় ৩০টি ফ্লাইটের সূচী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই এয়ারওয়েজ। এগুলোর অধিকাংশই ইউরোপগামী বা ইউরোপ থেকে ফেরার ফ্লাইট ছিল।

পরে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে যাওয়ার সূচী থাকা সব ফ্লাইট বাতিল করে তারা। এতে বৃহস্পতিবার ব্যাংককে এয়ারওয়েজটির প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী আটকা পড়ে।

“ইউরোপের ফ্লাইটগুলোর চার হাজার যাত্রী ও পাকিস্তানগামী ৭০০ থেকে ৮০০ যাত্রী আটকা পড়েছেন,” বলেছেন থাই এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র।

তারা ইউরোপে যাওয়ার নতুন রুটের জন্য ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়ে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করার পর থাই এয়ারওয়েজের তিনটি ফ্লাইট মাঝ আকাশ থেকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

“অন্যান্য দেশের ওপর দিয়ে যাওয়ার অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি আমরা,” বলেছেন তিনি।

থাইল্যান্ডের ফুকেটে ছুটি কাঁটিয়ে মিউনিখে ফিরতে চাওয়া জার্মান পর্যটক ৫৫ বছর বয়সী গেদা হাইনজেল বলেন, “ইতোমধ্যেই ১১ থেকে ১২ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি আমরা। আমাদের কিছু খেতে দেওয়া হয়নি, থাকতেও দেওয়া হয়নি।”

এর কয়েক ঘন্টা পর ‘পাকিস্তানের আকাসীমা এড়িয়ে থাই এয়ারওয়েজকে যাওয়ার জন্য’ চীন অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এয়ারওয়েজটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রাতানা পাটানাসিড়ি। এতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইটগুলো রওনা হতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমা খুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য