জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে যেখানে সেখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বাংলা মদ। লাইসেন্সকৃত মদভাটি ছাড়াও শহরের প্রায় ৫টি পয়েন্টে প্রতি গ্লাস মদ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সারা দিন। যে কোন সময় যে কেউ গেলেই সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন এই মাদকটি। অথচ প্রশাসন বলছে সৈয়দপুরে মাদক বিক্রি নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় মাদকের রমরমা ব্যবসায় নেশাদ্রব্য ছড়িয়ে পড়েছে শহরের আনাচে কানাচে আর এর প্রভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পরেছে তরুন-যুবকরা।

এতে মাদকসেবীদের মধ্যে বেপরোয়া ভাব সৃষ্টি হয়েছে, সে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের নতুন বাজার আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সন্নিকটে গড়ে ওঠা সরকারী লাইসেন্সকৃত মদ ভাটিটি দিনরাত প্রায় ২০ ঘন্টাই খোলা থাকছে। ফলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা অনেক সময় রাস্তায় মাদকাসক্তদের উৎপাতের শিকার হচ্ছেন।

এখানে সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মদ বিক্রির কথা থাকলেও সে নিয়ম মানা হচ্ছেনা। একইভাবে শুধুমাত্র সুইপার ও কার্ডধারী মাদকসেবীরা এখান থেকে মদ কিনতে পারবে বলে নিয়ম থাকলেও শিশু থেকে বৃদ্ধ, মুচি-ডোম থেকে শুরু করে মুসলিমরাও দিবারাত্রী মদ কিনছে এখানে। এমনকি এখানকার মদ এখানেই খেয়ে শেষ করার শর্ত থাকলেও অধিকাংশ মদই চলে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এদের মধ্যে আবার অনেকে একাধিকবার মদ কিনে কোমল পানীয়র বোতল ভর্তি করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে।

এভাবে শহরের প্রায় ৫টি পয়েন্টে চলছে বাংলা মদের জমজমাট বিক্রি ও সেবন। এর মধ্যে শহরের তামান্না সিনেমা হল এর পিছনে মেথর পট্টি সংলগ্ন এলাকায় লিটন এবং বাঁশবাড়ী-নতুনবাবুপাড়ার মধ্যস্থলে সাদ্দাম মোড় এলাকায় সেলিম, রেলওয়ে বাজারে রেল লাইনের পাশে বাঁশহাটিতে নিজাম, আদানী মোড় এলাকায় আইনুল এবং গোলাহাট এলাকায় মোবারক নিয়মিত মদ ভাটি থেকে মদ এনে বিক্রি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের অভিযোগ মদ ভাটির ম্যানেজার জসিম এর সহযোগিতাতেই লিটন, সেলিম, নিজাম, আইনুল ও মোবারক শহরের বিভিন্ন স্থানে বাংলা মদ বিক্রি করছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রশাসনিক সহযোগিতা করছে সৈয়দপুর থানার ক্যাশিয়ার নামে পরিচিত রাজু নামের এক ব্যক্তি। যার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয় পুলিশ তথা প্রশাসনের পক্ষে।

এদিকে সুইপারদের অভিযোগ হলো, মূলত: তাদের জন্যই এই মদভাটি গড়ে তোলা হয়েছে। অথচ তাদেরকেই মদ দেয়া হয়না। বরং অধিক দামে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়ে মদভাটি ম্যানেজার তাদের মদের সাথে পানি মিশিয়ে বিক্রি করছে। এতে সুইপাররা খাটি মদ পাচ্ছেন না। তাছাড়া সম্প্রতি মদের দামও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মদ ভাটির ম্যানেজারকে দোকানে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, আদর্শ স্কুলের কারণে দুপুর ২ টা পর্যন্ত মদভাটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একারণে আমরা লোকসানে পড়েছি। তাই অন্যত্র বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, মদ ভাটি সরকারী লাইসেন্সকৃত। তবে নিয়মের বাইরে কিছু করা হলে তা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হবে। মদ বিক্রি দূরের কথা শহরে এখন ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাজা বিক্রি একেবারে নেই বল্লে চলে। প্রশাসনের সব সময় নজরদারী থাকায় সৈয়দপুর থেকে মাদক নির্র্মূল হতে চলেছে। শহরের কোথাও বাংলা মদ বিক্রির কোন তথ্য আমাদের জানা নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য