মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের ‘জরুরি অবস্থা’ নাকচমেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ।

মঙ্গলবার ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত একটি বিল ২৪৫-১৮২ ভোটে গৃহীত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেশ কজন রিপাবলিকান সিনেটর জরুরি অবস্থা বাতিলের প্রস্তাব সম্বলিত বিলটির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত উচ্চকক্ষ সিনেটেও বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হলেও বিলটি খারিজে ভিটো দেয়ার ক্ষমতা থাকছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী বিলের ক্ষেত্রেই কেবল প্রেসিডেন্টের ভিটো প্রয়োগের সুযোগ থাকে না।

ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে জরুরি অবস্থাবিরোধী বিলটি পাস হবে, এটি অনুমিতই ছিল। যদিও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি যে ব্যবধানে জয়লাভের প্রত্যাশা করেছিলেন, রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র ১৩জন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে যাওয়ায় তা পূরণ হয়নি।

ভোটের আগে প্রতিনিধি পরিষদের বিতর্কে বিলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা জোয়াকিন ক্যাস্ত্রো বলেন, “সীমান্তে কোনো ধরনের জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে না। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের হারও চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।”

আইনপ্রণেতাদের সমর্থন ছাড়াই জরুরি অবস্থা জারি করে ট্রাম্প কংগ্রেস ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্যকে বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছেন বলে আগেই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।

এ কারণে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত বিলটি সিনেটেও ‘হয়তো পাস হয়ে যেতে পারে’ বলে মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদের ভোটের আগে এমএসএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর জন বারাসো।

ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে আরেক রিপাবলিকান সিনেটর থম ইলিসও বিলের পক্ষে অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন।

বিলটির পক্ষে অবস্থান নেবেন বলে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকোওস্কি; এর আগে তার আরেক সহকর্মী সুসান কলিন্সও একই মত ব্যক্ত করেছিলেন।

সিনেটে বিলটি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যকার দ্বিধাবিভক্তি দূর করতে জরুরি বৈঠক করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

জরুরি অবস্থাবিরোধী বিল সিনেটে উঠলে তার ফলাফল কী হতে পারে সে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল। বিলটি সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের ব্যবধানে অনুমোদিত হতে পারে কি না, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

পেন্সের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটরদের ‘তুমুল, জোরাল আলোচনা’ হলেও ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা ঘোষণাটি বৈধ কি না সে বিষয়ে ‘চূড়ান্ত উপসংহারে’ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, বলেছেন মিচ।

এদিকে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটির পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, কংগ্রেসে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে ভিটো ক্ষমতা প্রয়োগের সুপারিশ করতে পারেন।

ভিটো দিলে এটিই হবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম এ ধরনের ক্ষমতার প্রয়োগ।

জরুরি অবস্থা নিয়ে কেবল কংগ্রেসের সঙ্গেই লড়তে হচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসনকে, চোখ রাঙাচ্ছে আইনি দ্বন্দ্বও। জরুরি অবস্থা খারিজে এরইমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে ১৬টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য