ওয়াল স্ট্রিটে সমাবেশে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন তৎপরতার নিন্দাভেনেজুয়েলাতে যুদ্ধে না জড়ানোর দাবি জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে সমাবেশ করেছে প্রতিবাদকারীরা। ২৩ ফেব্রুয়ারির ওই আয়োজন প্রসঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে শতাধিক সংগঠন। বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার আর্থিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে। স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হোয়ান গোয়াইদোকে মার্কিন ক্রীড়নক আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে রাখা ভেনেজুয়েলার সব অর্থ সম্পদ ফেরত দেওয়ার। বিবৃতি দেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে আল আফ্রিকান পিপলস রেভ্যুলেশনারি পার্টি, অ্যান্টি-ওয়ার কমিটি, বাল্টিমোর পিস অ্যাকশন, বোস্টন মে ডে কোয়ালিশন, শিকাগো কমিটি এগেইনস্ট মিলিটারিজম, কোয়ালিশন ফর জাস্টিস, হিউস্টন ফ্রেন্ডস অব ভেনেজুয়েলা ইত্যাদি।

প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার গণমানুষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। নিকোলা মাদুরো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, যাকে দেশটির জনগণ দুই দুইবার বেছে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে। ১৯৯৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসার পর থেকে তাদের প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পয়েছে। এখন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া, শত শত কোটি ডলারের সম্পদ দখল করে রাখা এবং সংবাদমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অসত্য প্রচারের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তারা।’

‘বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে। কখনও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, কখনও আগ্রাসনের মাধ্যমে এবং কখনও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র ব্যবহার করে। হোয়ান গোয়াইদো মার্কিন পুতুল। তিনি ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি নন। গণতন্ত্র রক্ষার নামে একটি সভায় নিজেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার মতো কাজ হাস্যকর। ডানপন্থীরা দাবি করে, ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। আর তাই তারা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তারা আসলে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেছিল। তাদের তৎপরতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে এককালে বর্ণবাদী আইনের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে চালানো সন্ত্রাসের কথা মনে পড়ে যায়।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞা এবং মুদ্রামান পতনের কারসাজি ভেনেজুয়েলার বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। মার্কো রুবিও ও মিয়ামির ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়ান গোয়াইদোকে চালাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট ও পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে কোনও দেশ তার প্রাকৃতিক সম্পদ বা পরিশ্রমের সুফল ভোগ করবে, তা হতে দিতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের যেকোনও দেশের তুলনায় ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেলের মজুত বেশি। দেশটিতে রয়েছে সোনা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ। এখন ইরাক যুদ্ধের অন্যতম নীলনকশাকারী জন বোল্টন বলছেন, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে পারলে তা ওয়াল স্ট্রিটের জন্য মুনাফা অর্জনের অনেক বড় সুযোগ তৈরি করে দেবে। আমরাও আসলে সেটা বুঝতে পারছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বিষয়ে নিজেদের এসব বক্তব্য উপস্থাপনের পর প্রতিবাদ জানানো সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, বলিভারিয়ান রিপাবলিক অব ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। অভ্যুত্থানে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংসের চেষ্টা থেকে সরে আসতে হবে এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান দিতে হবে। যেসব দেশ ভেনেজুয়েলার অর্থ-সম্পদ আটকে রেখেছে, তাদেরকে অবিলম্বে সেসব ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ও দেশটির জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। গণহত্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং মুদ্রামান পতনের চক্রান্তের জন্য ওয়াল স্ট্রিটকে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক বিপর্যস্ততা ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা হোয়ান গোয়াইদো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম স্বীকৃতিদাতা। এক একে লাতিন আমেরিকার অনেকগুলো দেশসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশও গোয়াইদোকে স্বীকৃতি দেয়। আর বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর পক্ষে দাঁড়ায় চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য