মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সাবিয়ার বিরদ্ধে এলাকার এক গৃহবধুকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ব্যর্থ হয়ে সাংগ-পাংগ নিয়ে হামলা করে বেধরক মারপিটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করার জন্য সৈয়দপুর থানার এস আই জহুরুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়েছে গত ২১ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)। তার প্রেক্ষিতে গত ১০ ফেব্রুয়ারী সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ মহল্লার মো: সজুজের স্ত্রী মোছা: সাথীর করা মামলাটির তদন্ত চলছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদিনী ইসলামবাগ মহল্লায় রেলওয়ে লাইনের পাশে রেলওয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় নিজ অর্থে টিনের বেড়া ও উপরে টিনের চালা দিয়ে ঘর নির্মাণ করে বিগত ২ বছর যাবত বসবাস করছে। গত প্রায় ১ বছর যাবত প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ও সৈয়দপুর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সাবিয়া (৪২) সহ তার পরিবারের লোকজন বাদিনীকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ পূর্বক দখল করার চেষ্টা করছেন।

এজন্য তিনি বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে আসছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কাউন্সিলর সাবিয়া, তার মেয়ে ইসমিতা (২৪), জ্যোতি (২২), ভাই মো: রাজা (৩০) সহ ১৫-২০ জন দলবদ্ধ হয়ে দা. হাতুরী, লোহার রড, গাছের ডাল, বাঁশের লাঠি ও চেরা খড়ি নিয়ে বাদিনীর বাড়ির ভিতরে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

গত ২৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কাউন্সিলর সাবিয়া, তার মেয়ে ইসমিতা (২৪), জ্যোতি (২২), ভাই মো: রাজা (৩০) সহ ১৫-২০ জন দলবদ্ধ হয়ে দা. হাতুরী, লোহার রড, গাছের ডাল, বাঁশের লাঠি ও চেরা খড়ি নিয়ে বাদিনীর বাড়ির ভিতরে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এতে মো: সবুজ প্রতিবাদ করলে শোরগোল শুরু হয় এবং আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় কাউন্সিলর সাবিয়া সঙ্গের লোকজনকে হুকুম দেয় যে, সাথী ও তার স্বামী সবুজকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে বাড়িটি দখল করে নেয়ার জন্য। তার হুকুম পেয়ে অন্যান্যরা যার হাতে যা ছিল তাই নিয়ে হামলা করে।

এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে সাথী ও সবুজ মারাত্মকভাবে আঘাত পায়। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সাথীর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সেখানে সে ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে আসেন এবং সৈয়দপুর থানায় মামলা করার চেষ্টা করলে তাদের মামলা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে নীলফামারী বিজ্ঞ আমলী আদালত-২ এ গত ১০ ফেব্রুয়ারী ১১ জনকে আসামী করে মামলা করেন। তার প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি তদন্তের ভার ন্যাস্ত করে সৈয়দপুর থানায়।

এ মামলা করার কারণে আসামী পক্ষ সাথী ও সবুজের পরিবারকে নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে চলেছেন। এতে তারা আরও বেশি জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার এস আই জহুরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে অধিকতর তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। আমরা তদন্ত করে দেখছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য