গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা আ’ লীগের সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল লতিফ প্রধানের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের দোসর, সাবেক এমপি ও তার অনুসারিরা।

এব্যাপারে কয়েকটি গণ মাধ্যমেও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে তাকে এবং তাঁর পরিবারের মানহানী ও জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এতে সাংবাদিক ছাড়াও বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রধান আতাউর রহমান বাবলু এবং গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার উল্লেখ করেন, আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদি ও স্বাক্ষীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

জাসদ থেকে আগত সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ষড়যন্ত্র করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানে বাধা প্রদান ও বাদিকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করেছেন। অথচ যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ছইরুদ্দিন ও স্বাক্ষীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগের প্রতিবাদ করেন এবং আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপপ্রচার মিথ্যা বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন।

তারা জানান, উপরন্ত আব্দুল লতিফ প্রধান মামলার ক্ষেত্রে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাপরাধ টাইব্যুনালে মোফাজ্জল হোসেন প্রধান রাজাকারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদি, মামলার স্বাক্ষী, মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ, দলীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল লতিফ প্রধান ঐতিহ্যবাহি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এবং তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সাফল্যের সাথে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও তিনি ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তদুপরি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও তিনি লক্ষাধিক ভোট পান। তার বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই মানননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন।

প্রকৃত পক্ষে ওই সাবেক এমপি এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় এবং নিজের শ্যালক মুকিতুর রহমান রাফিকে উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি এবং তার লোকজন আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে এই হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে ‘জয়বাংলা ধানের শীষ’ মিশন নামে কোটি টাকা খরচ করেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর বিজয় ঠেকাতে পারেননি সাবেক এমপি ও তার জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত দোসররা। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল লতিফ প্রধান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকারসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য