আপেল কুল চাষে লাখপতি বিরলের কৃষকদিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরলে আপেল কুল চাষে লাখপতি কৃষক আবদুস সালাম ভাগ্য বদলের স্বপ্ন যোগাচ্ছে এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে। যে জমিতে তিনি প্রচলিত ফসল ধান, গম ভূট্টা চাষ করে হাজার টাকা আয় করতেন, সেই একই জমিতে আপেল কুল বাগান রোপন করে শুরুর বছরেই লাখ টাকা আয় করেছেন। তাঁর বাগান পরিচর্যা আর আয়ের চমৎকার কলাকৌশল দেখে আশপাশের কৃষকরাও গড়ে তুলছেন কুল বাগান।

উপজেলার ধর্মপুর ইউপি’র দ্বীপনগর গ্রামের লেবু চাষে সুপরিচিত কৃষক আলহাজ¦ আবদুল বাছের এর সফল কৃষক পুত্র আবদুস সালাম ৭ বছর পূর্বে দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামে প্রায় ৬ একর জমিতে ৬ শত চারাগাছ রোপন করে গড়ে তুলেন আপেল কুল বাগান। তিনি অন্যান্য জাতের মধ্যে ভারতীয়, কাশ্মিরি, নারিকেল, বাউ ও থাই কুল থাকলেও আপেল কুলকে প্রাধান্য দিয়ে এ বাগান গড়ে তুলেন। শীতের সুস্বাদু ফল (বরই) কুল।

টক, মিষ্টি, দেশী, বিদেশী নানান জাতের কুল এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আগে থেকেই কেউবা বসত-বাড়ী ও তার আশপাশে রোপন করে পরিবারের স্বাদ যুগিয়েছেন। তারপরও দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদেরকে বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে লাভবান হতে শুনে তিনি নিজেই বাগান সৃষ্টির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন।

দুই জন শ্রমিক বাৎসরিকভাবে নিয়োগ করে বাগান পরিচর্যা কাজে সার্বক্ষণিক রেখেছেন। এছাড়াও সেচ, পরিচর্যা, নিড়ানী, ও অন্যান্য কাজের জন্য বাড়তি শ্রমিক নিতে হয় তাঁকে। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয় সেচ ও পরিচর্যায়। প্রথম বছরেই প্রায় ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হয় এ বাগানের কুল।

পরের বছর আর ফিরে তাকাতে হয়নি, এ বছর প্রায় ৬ লাখ টাকায় কুল গাছে ফুল আসার পর বাগান চুক্তিতে বিক্রি করেছেন। বাগানের চতুর্দিকে লম্বু জাতের কাঠের গাছ রোপন করায় ৫ বছর পরে সেই গাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেন। নিরাপত্তা ও বেড়ার বদলে বাগানের চতুর্দিকে লেবু চারা রোপন করেছেন। সেখান থেকেও বাড়তি আয় হয় তাঁর।

কুল পাকা শুরু হলে পাইকারি দরে প্রতিমণ কুল ব্যাপারিরা ক্রয় করে নিয়ে যায় বাগান থেকে। যা দিনাজপুর জেলাসহ আশপাশের জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা শহরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর এ বাগান দেখে এ অঞ্চলে প্রায় জায়গায় বাগান গড়ে তুলছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মাহবুবার রহমান জানান, ফলের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অত্র উপজেলায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে আপেল কুল চাষ হচ্ছে। অন্যান্য কুলের থেকে আপেল কুল এর চাহিদা বেশি। বাজারে প্রতি কেজি প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কৃষক ভাইদের জন্য কুল চাষ লাভবান, কুল গাছ খরা সহিষ্ণু।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য