দিনাজপুরে পশু খাদ্য হিসেবে ইউএমএস প্রযুক্তির নীরব বিপ্লবদিনাজপুর সংবাদঃ মহিলা বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) এর IFAD & PKSF এর অর্থায়নে Promoting Agricultural Commercialization Enterprises(PACE) প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী এবং সদর উপজেলার আওতাধীন মোট ২২৫০ জন সদস্য নিয়ে ২০১৬ সালের এপ্রির মাস থেকে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ।

প্রকল্পের শুরুতে এই এলাকায় আদর্শভাবে গরু মোটাতাজাকরন সম্পর্কে কোন খামারীর সুস্পষ্ট ধারনা ছিল না এবং কি শূধুমাত্র ঈদুল-আজ-হা কে লক্ষ্য করে বছরে একবার বকনা গরুর পাশাপাশি দু একটি করে ষাড় গরু মোটাতাজাকরন করত । এতে খামারীরা খুব একটা লাভের মুখ দেখতে পাইতেন না । গ্রামের প্রান্তিক পর্যায় মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তথা দেশের স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরন, এবং আয় বৃদ্ধিকরন করে দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পুরনের জন্য পিকেএসএফ এর সহায়তায় এমবিএসকে এই প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ।

গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পের ডাক্তার ডা: বাবুল চন্দ্র বর্মন এর নেতৃত্বে খামারীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম প্রানিসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ভেটেরিনারি সার্ভিস নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে এলাকায় এখন অনেকেই বকনা গরুর পরিবর্তে বানিজ্যিকভাবে বছরে ২-৩ টি সাইকেলে ষাড় গরু পালনের আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউএমএস) হচ্ছে স্বল্প সময়ে কম খরচে গরু মোটাতাজাকরন করার একটি অভিনব প্রযুক্তি । প্রকল্পের শুরুতে গরু মোটাতাজাকরনের জন্য আদর্শ দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ইউড়িয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউএমএস) এই সম্পর্কে কেউ জানতো না এবং কি কেউ ভয়ে খাওয়াতে চাইত না।

এমবিএসকের গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে খামাড়ীদের প্রশিক্ষন, উঠান বৈঠক, ইউএমএস প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউএমএস) সম্পর্কে সচেতন করানোর ফলে বর্তমানে সদর এবং ফুলবাড়ী উপজেলাতেই স্বল্প সময়ে কম খরচে দ্রুত গরু মোটাতাজাকরনের জন্য ২২৫০ জন সদস্যের মধ্যে ১৫২০ জন যা প্রায় শতকরা ৬৭% জন সদস্য নিয়মিত ইউড়িয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউএমএস) প্রযুক্তি ব্যাবহার করছে এবং এই খাবার খাওয়ানোর ফলে ৩ মাস পরে প্রতি গরুতে ১০০০০ থেকে ১২০০০ টাকা লভ্যাংশ পাওয়া যায় । এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে PACE প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ডা: বাবুল চন্দ্র বর্মন জানান ইউড়িয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউএমএস) তৈরির জন্য প্রতি ১ কেজির খড়ের জন্য পানি আধা লিটার, চিটাগুর-২৫০ গ্রাম, এবং ইউরিয়া সার-৩০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে খড়ের সাথে ভালভাবে মিশ্রন করে গরুকে খাওয়ানো যায় ।

আদর্শভাবে গরু মোটাতাজাকরন বলতে প্রথমে ভাল জাতের গরু নির্বাচন, আদর্শ গোয়াল ঘর তৈরি, সুষম খাবার প্রদান (সঠিকভাবে দানাদার এবং আশজাতীয় খাবার সরবরাহ) করে নিয়মিত কৃমিনাশক এবং টিকাপ্রদানের মাধ্যমে শুকনা গরুকে ৩-৪ মাসের সাইকেলে গরুকে লালন পালন করে বাজারজাতকরন নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে আদর্শভাবে গরু মোটাতাজাকরনের করে প্রান্তিক পর্যায়ে খামারীদের আয় বৃদ্ধিকরন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এবং গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এই পদ্ধতি বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্স ইনস্টিটিউড (বিএলআরআই) কতৃক পরীক্ষালদ্ধ এবং এর কোন পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নাই।

তবে ইউড়িয়া সারের পরিমান বাড়ানো যাবেনা। ইতিপুর্বে এই অঞ্চলে গরু মোটাতাজাকরনের আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারন হয় নাই বর্তমানে এমবিএসকের PACE প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু মোটাতাজাকরন এবং প্রযুক্তির সম্প্রসারন এর বিপ্লব ঘটেছে। এই ইউএমএস প্রযুক্তি এলাকায় অত্যন্তভাবে গরু মোটাতাজাকরনে অনুকুল প্রভাব ফেলেছে। যেহেতু কোন স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ছাড়াই বৈঞ্জানিক পদ্ধতিতে আদর্শ দানাদার এবং আশ জাতীয় খাবারের মাধ্যমে PACE প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং বর্তমানে প্রকল্পের কর্ম এলাকায় মোট ৮৬৮ টি আদর্শ মিনি খামাড় স্থাপন সম্ভব হয়েছে যেখানে আরো আদর্শ গরুর খামার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে ।

এমবিএসকের নির্বাহী প্রধান জনাব মোসা: সুলতানা রাজিয়া খাতুন জানান দেশের মানুষের গরুর মাংসের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি মানুষের আয় বৃদ্ধিকরনের এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্যই পিকেএসএফ এর নিকট এই প্রকল্প নেওয়া হয়। এমবিএসকের চঅঈঊ প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্প আগামী এপ্রিল ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা আছে । কিন্তু এই পকল্পের ইউএমএস প্রযুক্তি এলাকায় গরু মোটাতাজাকরনে বিশাল অনুকুল প্রভাব পরেছে । এখন পর্যন্ত ৬৭ % সদস্য এই প্রযুক্তির আওতায় আসছে এবং কি ৩৯ % আদর্শ মিনি খামাড় স্থাপন সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রাণিজ আমিষে স্বয়ং সম্পুন্ন হলেও গরুর মাংসের বাজারমুল্য অনেক বেশী তাই এই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তথা বেকারত্ব দুরীকরনের জন্য এবং নারীর ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করার নিমিওে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাস্টার আকারে গরু মোটাতাজাকরনের মিনি খামার স্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মিটানোর সাথে সাথে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এই PACE প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ সম্প্রসারন করা এই অঞ্চলে খুবই গুরুত্বপুর্ন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য