সৈয়দপুরে স্কুলের বেতন ও সেশন ফি কমানোর দাবিতে অভিভাবকদের বিক্ষোভমো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের বেতন ও সেশন ফি সহ অন্যান্য ফি কমানোর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন অভিভাবকরা।

১৭ ফেব্র“য়ারী রবিবার সকালে অভিভাবকরা এ আবেদন করেছে। এর আগে তারা গত ১৬ ফেব্র“য়ারী প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কাছে আবেদন দেয়ার সময় অভিভাবকদের স্কুল চত্বর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান করেন।

পরে তারা অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগটি নিয়েই উপজেলা পরিষদে গিয়ে ইউএনও এস এম গোলাম কিবরিয়া এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা ইয়াসমীন কে প্রদান করেন। এসময় তারা সেখানেও ১ ঘন্টা অবস্থান করেন।

অভিভাবকরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই স্ট্যান্ডার্ড নার্সারী থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণীতে বেতন, সেশন ফিসহ অন্যান্য ফি বৃদ্ধি করে চলেছে। এবার তারা প্রায় দ্বিগুন করে বৃদ্ধি করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চরম হিমশিম খাচ্ছে।

যে অভিভাবকদের একাধিক শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত তাদের পক্ষে সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে পড়ানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত আসিয়া আক্তার, খুকুমনি, সজনী খাতুন, রোকসানা জানান, বেতন ও সেশন ফি কমানো না হলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। কেননা তারা একদিকে বেতন ও সেশন ফি’র নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে অন্যদিকে সেই বৃদ্ধিকৃত বেতন ও সেশন কমানোর জন্য আবেদন করলে অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা ইয়াসমীন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা। স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারী পরিপত্র অনুযায়ী কতটুকু বেতন বৃদ্ধি করেছে তা যাচাই করার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, অভিভাকরা আমার কাছে তাদের দাবি নিয়ে এসেছিলেন। তাদের কথা শুনেছি। আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সৃষ্ট অচলাবস্থার একটা সুষ্ঠু সমাধান করার চেষ্টা করবো।

লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি করছে একটি মহল। আমরা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অভিভাবকদের অসুবিধা বিবেচনা করে তাদের বসার অনুরোধ করলেও তারা মানতে রাজী হয়নি। আমরা এখনও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য