ভারতজুড়ে আক্রান্ত কাশ্মীরিরা, সুরক্ষার নির্দেশ সরকারেরকাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ জওয়ান নিহত হওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন স্থানে কাশ্মীরিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পুলওয়ামার হামলা ঘিরে রাজ্যের জম্মু ও কাশ্মীর অংশের মধ্যে বিভেদ দেখা গেছে এবং জম্মুতে জনতার হামলায় অন্তত ৩৭ জন কাশ্মীরি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

দেশটির আরেক গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মুর পাশাপাশি দেশের আরও অনেক অংশ থেকে কাশ্মীরিদের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসতে থাকায় রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোকে কাশ্মীরিদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

কাশ্মীদের ওপর হামলা ঠেকাতে জম্মুতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। অপরদিকে কাশ্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার শ্রীনগরসহ কাশ্মীর উপত্যাকায় হরতালের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলার জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা হামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

“এ কারণে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোকে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।”

দেরাদুনে ভাড়াটে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী। তাদের বাড়িতে হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় বাড়িওয়ালারা এসব নোটিশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা, খবর প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) ।

বিহার ও হরিয়ান থেকেও একই ধরনের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

পাটনায় কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

বশির আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী বলেছেন, “একদল লোক লাঠিসোটা হাতে আমার দোকানের সামনে হাজির হয়। তারা শ্লোগান দিতে থাকে। তখনও পর্যন্ত পুলওয়ামার ওই হামলার ঘটনার কথা জানতাম না আমি।

“কিন্তু তারা দোকানের জিনিপত্র ধ্বংস করে আমাকে ও কর্মচারীদের মারধর করে।”

তিনি বলেন, “আমি গত ৩৫ বছর ধরে পাটনায় কাজ করছি, কিন্তু কখনো এ রকম পরিস্থিতিতে পড়িনি। আমি রাজনীতি করি না, আমি এতো ব্যস্ত থাকি যে খবর দেখার সময়ও পাই না।”

এর আগে জম্মুতে পুলওয়ামা ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজন কারফিউয়ের মধ্যেই অনেকগুলো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবারের ওই হামলার পর থেকে গত তিন দিন ধরে জম্মু শহরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

জম্মুর তাবি এলাকায় কাশ্মীরিদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে উত্তেজিত জনতার হামলা চলাকালে পুলিশ অন্যদিকে তাকিয়ে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কাশ্মীরিরা।

অপরদিকে জম্মু ও ভারতের অন্যান্য অংশে কাশ্মীরিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবিতে মিছিল করেছে শ্রীনগরের হরতালকারীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য