হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনিয়মে অভিভাবক ও শিক্ষাথীদের সংবাদ সম্মেলনসংবাদ সম্মেলনঃ বুধবার বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ভর্ত্তির অনিয়ম প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিভাবক ও শিক্ষাথীদের সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পঞ্চগড় জেলা সদরের কামাতপাড়া গ্রামের মো: মজিবর রহমান। তিনি বলেন, দিনাজপুর হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ভর্ত্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি বলেন.আমার মেয়ে শারমিন আকতার জি ইউনিটের শিফট-৩ তে ১১ তম অপেক্ষমান মেধাক্রমে ছিল। সে যথাক্রমে রিপোর্টও করে।

কিন্তু ভর্তির ফলাফলে ১২ তম অপেক্ষমান মেধাক্রমের স্থান থাকলেও আমার মেয়ের কোনো তালিকা দেয়া হয়নি। আমি এটিকে অনিয়ম বলেই মনে করছি। আমার মেয়ে রেজিষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছে কিন্তু কোন ফল হয়নি। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করছি এবং আমার মেয়েকে যেন নিয়মমত ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে একই ব্যাপরে অভিযোগ করেন চট্রগ্রাম হতে আগত ভর্ত্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী রিদওয়ানুল হক। সে এফ ইউনিটের ১০০ তম অপেক্ষমান মেধাক্রমে ছিল। নিয়ম মত রিপোর্টও করেছে কিন্তু সে ভর্ত্তি হতে পারেনি। সে জানায় আমার পরের অপেক্ষমান তালিকা থেকে অনেকেই চুড়ান্ত ভর্তির তালিকায় স্থান পেয়েছে অথচ আমি পেলাম না কেন।

যেখানে আমার রোল নেই। এটিকে আমি অনিয়ম হিসেবেই বুঝতে পারছি। আমাকে বঞ্ছিত করা হচ্ছে। আমি নিয়ম অনুযায়ী ভর্তির যোগ্যতা রাখি। আমি লিখিত অভিযোগও করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো এক অজানা কারণে আমাকে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করছে। আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার লালিত স্বপ্ন ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

লাবীব ফারহান নামের শিক্ষার্থীরও একই অবস্থা। সি ইউনিটের ২৬ তম অপেক্ষমান মেধাক্রমে ছিল। নিয়মমত রিপোর্ট করার পরেও ভর্তি তালিকায় আমার পরের অনেকেই থাকলেও আমার রোল নেই। আমি যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়বার স্বপ্ন ধ্বংস করার অধিকার কারোর নেই। আমি লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছি না।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়েছে, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ড. সফিউল আলম স্বাক্ষরিত সংশোধিত চিঠিটি ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রকাশ করে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম পরিপন্থি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে এহেন কর্মকান্ড সম্পন্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বলেই প্রতিয়মান হয় ।

আরোও উল্লেখ্য করা যায় যে, জি ইউনিটের অপেক্ষমান তালিকা হতে ভর্তির তারিখ ১২/০২/২০১৯ নির্ধারিত থাকলেও ১৩/০২/২০১৯ তারিখে কিছু প্রার্থীকে ভর্তি করানো হয়। যা ভর্তি কমিটির প্রচলিত নিয়ম বহির্ভূত। তারা বলেন আরোও ৮-১০ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে বঞ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য