আজ পহেলা ফাল্গুনশীতের শুকনো বিবর্ণ সময় পেরিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে রঙের ছোঁয়া। বাহারি ফুলে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। শহুরে জীবনেও লেগেছে ফাগুন হাওয়া। আজ পহেলা ফাল্গুন। সূর্য ওঠার সাথেই হেসে উঠলো ঋতুরাজ বসন্ত। ভালোবাসার এই বসন্তকে উদযাপন করতে দিনাজপুর জুড়ে তাই নানা আয়োজন। বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রথম দিনে মেতে উঠেছে বাঙালি। দিনাজপুর সরকারি কলেজ, কে.বি.এম কলেজ সহ বিভিন্ন স্কুল কলেজে বসন্ত উৎসব উদযাপনের আয়োজন করেছে। এছড়াও সংস্কৃতিক সংস্থা গুলো আয়েজন করেছে ঋতুরাজ বসন্ত বরণ উৎসব। দোকানে দোকানে তরুনীদের ভীড় নিজেদের বাসন্তি রঙ্গে রাজিয়ে তোলার জন্য।

বসন্তের স্পর্শে জেগে উঠেছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম। বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। মন তাই গেয়ে উঠবে ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে/ ডালে ডালে ফুলে ফুলে পাতায় পাতায় রে……….’।

বাঙালির জীবনে বসন্তের উপস্থিতি অনাদিকাল থেকেই। কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায় আছে বসন্তের বন্দনা। সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে তার আপন মহিমায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিককালের বাউল কবির মনকেও বারবার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত।

আজ পহেলা ফাল্গুনবসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপরও রং ছড়ায়। বায়ান্ন সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে পালন করি ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। এ উৎসব এখন পরিণত হয়েছে বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে। বসন্তের প্রথম মুহূর্তকে ধরে রাখতে তাইতো সবাই মেতে ওঠে নানা উৎসব ও সাজে। বাসন্তী রঙের শাড়িতে বাঙালি নারীকে অপরূপ দেখায়। এতে পিছিয়ে নেই পুরুষেরাও।

বাংলায় বসন্ত উৎসব এখন প্রাণের উৎসবে পরিণত হলেও এর শুরুর একটা ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে, যা অনেকের অজানা। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব।

তখন অবশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। কিন্তু অন্য ঋতুর চেয়ে এই ঋতুকে পালন করা হতো আলাদাভাবে। তাই পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা।

আজ পহেলা ফাল্গুনসে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে।

ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ দিনভর চলবে বসন্ত বন্দনায়। প্রতিবছরের মতো এবারেও জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষৎ এর উদ্যোগে ঢাকা শহরে বিভিন্ন মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ বকুল তলায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হবে সকালে। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমী, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বসন্তবরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য