বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের ২৪ ঘন্টার আন্দোলনে দাবী পুরনফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের ২৪ ঘন্টার আন্দোলনে পুরন হল ১৮ মাসের পুরোনো দাবী ।

জানা গেছে প্রফিট বোনাস ও নৈবত্তিক ছুটির দাবীতে গত সোমবার সন্ধা ৬ টা থেকে কর্ম বিরতী কর্মসূচি শুরু করে, খনিটির চিনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও এক্সএমসির অধিনে কর্মকর্ত খনি শ্রমিক ও তৃতীয় পক্ষের অধিনে কর্মরত শ্রমিকরা। শ্রমিকরা কর্ম বিরতী কর্মসূচি শুরু করলে, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে খনি কতৃপক্ষের সাথে একটি সমজোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সমজোতা বৈঠকে খনি কতৃপক্ষ, আন্দোলনরত শ্রমিকদের গত ১৮ মাস থেকে বাকী থাকা নৈবত্তিক ছুটি ও বঞ্চিত শ্রমিকদের প্রফিট বোনাস দেয়ার আশ্বাস দেয়ায়, শ্রমিকরা গতকাল মঙ্গলবার সন্ধা ৬ থেকে আবোরো কাজে যোগ দেয়। এতে করে গত ২৪ ঘন্টার আন্দোলনে দির্ঘ ১৮ মাসের দাবী পুরন হল শ্রমিকদের।

সমজোতা বৈঠকে খনিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানসহ খনির পদস্থ কর্মকর্তাগন ও আন্দোলনরত বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ ১০জন শ্রমিক প্রতিনিধি উপস্তিত ছিলেন।

আন্দোলনরত বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়নের অধিনে খনিতে কর্মরত চিনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধিনে এক হাজার ৮৬ জন ও তৃতীয় পক্ষের অধিনে কর্মরত ২৫২ জন শ্রমিক।

প্রতি বছর তৃতীয় পক্ষের অধিনে কর্মরত শ্রমিক ও চিনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধিনে কর্মরত শ্রমিক এবং খনিতে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবার গুলোকে এক সঙ্গে প্রফিট বোনাস প্রদান করলেও, এইবার চিনা ঠিকারদী প্রতিষ্ঠানের অধিনে কর্মরত এক হাজার ৮৬ জনকে প্রফিট বোনাস দিলেও, তৃতীয় পক্ষের অধিনে কর্মরত ২৫২ জন এবং দুর্ঘটনায় আহত ৬ জন ও নিহত ৭ জন শ্রমিক পরিবারকে প্রফিট বোনাস প্রদান করা হয়নি। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী নৈবত্তিক ছুটি ও গ্রাছুটির টাকা গত ১৮ মাস থেকে পরিশোধ করেনি কতৃপক্ষ। এই কারনে শ্রমিকদের নৈবত্তিক ছুটি ও বঞ্চিত শ্রমিকদের প্রফিট বোনাসের দাবীতে সোমবার সন্ধা থেকে কর্মস্থলে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে শ্রমিকরা।

এই শ্রমিক নেতা বলেন শ্রমিকরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করার পর, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অফিস কক্ষে শ্রমিকদের সাথে একটি সমজোতা বৈঠক বসে, বৈঠকটি বেলা দুপুর এক টায় বিরতী দিয়ে আবারো বেলা ২টা ৩০ মিনিটে বসে, দুই দফায় দির্ঘ বৈঠকের পর বিকাল ৪ টায় কতৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবী মেনে নেয়ার আশ^াস দেয়ায়, শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

এই বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের গত ১৮ মাস থেকে বকেয়া থাকা নৈবত্তিক ছুটি ও প্রফিট বোনাস দেয়ায় তারা আনান্দের সাথে কাজে যোগ দিয়েছে। শ্রমিকরা আনান্দের সাথে কাজে যোগ দেয়ায়, খনিটিতে আগামীকাল (আজ) বুধবার থেকে নতুন স্টোপ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য