কুড়িগ্রামে ক্ষতিকর পোকা দমনে পালিত হল পার্চিং উৎসবপরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, ফসলের খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণে কুড়িগ্রামে পার্চিং উৎসব পালন করা হয়। বোরোধান আবাদে কৃষককে সহায়তা করতে জেলার ৯টি উপজেলায় ৩১৯টি ব্লকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে এই পার্চিং উৎসব পালন করা হয়।

মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের জোর্তগোবরধন এলাকায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম, ডিডি রংপুর মনিরুজ্জামান, ডিডি কুড়িগ্রাম ড: মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান, সদর কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন, রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান প্রমুখ।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ হেক্টর জমিতে বোরেধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষির উপর নির্ভরশীল জেলার মানুষগুলো বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে চাষাবাদ চালিয়ে আসছে।

বেশিরভাগ কৃষক কীটনাশক ও সার প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় জমির মাটিতে চাপ বাড়ছে। এতে খরচও বেশি হচ্ছে। কৃষকদের খরচ কমিয়ে আনা, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং স্থানীয় পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ

এবার প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদেরকে নিয়ে পার্চিং এবং লাইনলোগো পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে পার্চিং ব্যবহার কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। পার্চিং পদ্ধতি হচ্ছে জমিতে নিরাপদ অভয়াবস্থান সৃষ্টি করা। পার্চিং অর্থাৎ বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল জমিতে পুতে রাখা।

যেখানে পাখিরা বসে বিশ্রাম নিতে পারবে এবং ফসলের ক্ষতিকর পোকাগুলো খাবে এবং মলত্যাগ করে জমিতে সার বৃদ্ধি করবে। জমিতে চারা রোপনের এক সপ্তাহের মধ্যে এক বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০টি কঞ্চি বা ডাল মাটিতে পোতা যাবে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম জানান, রংপুর অঞ্চলে এবার বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ হেক্টর জমিতে।

কৃষকদেরকে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করতে তাদেরকে সারিতে চারা রোপন, লোগোপ পদ্ধতি অনুসরণ, সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার, পরিমিত সেচ, আগাছামুক্ত রাখা এবং পার্চিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য