পলাশবাড়ীতে ইরি-বোরো চারা রোপনে শেষ মূহুর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরাআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ার সাথে-সাথেই জমি প্রস্তুতের পাশাপাশি ইরি-বোরো ধানের চারা লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। এ উপজেলায় কৃষকেরা পানি সেচ ও হাল চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে কোমর বেঁধে ইরি-বোরো চাষে মাঠে নেমেছেন। কৃষকরা বলছেন শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক আবহাওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক থাকলে সুষ্ঠুভাবে শতভাগ ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ইরি-বোরো চারা রোপনের সময়কাল জানুয়ারি ১৫ থেকে মার্চ ১৫ পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে এই উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মোট ১৩ হাজার ৪’শ ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ২’শ ৭০ হেক্টর বেশি। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। ইরি-বোরো চারা রোপনের মূল লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী প্রায় ৭’শ ২০ হেক্টর জমি বীজতলা করা হয়েছে। এ হিসেবে ১ হেক্টর জমির চারা দিয়ে ২০ হেক্টর জমিতে চারা রোপন সম্ভব হয় বলে কৃষি অফিস সূত্র জানায়।

সরেজমিন উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, ইরি-বোরো চাষে লিপ্ত কৃষকরা রাত শেষে ভোর বেলার শীতের তীব্রতা কাটতে না কাটতেই তারা বসতবাড়ী ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে ইরি-বোরো মাঠে। কৃষকরা কেউ কেউ প্রতিযোগিতা মূলক যান্ত্রিক যান দিয়ে চাষবাসের পর রাসায়নিক সার ছিঁটানোর মাধ্যমে জমি প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করছেন। আবার অনেকেই শেষ পর্যায়ে চারা রোপনে লিপ্ত রয়েছেন। চারা রোপনের নিমিত্তে বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনে কৃষাণ-কৃষাণিরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। কৃষকেরা তাদের নিয়োজিত শ্রিিমকদের নিয়ে শীত উপেক্ষা করে শরীরে কাঁদা পানি মাখিয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভালোয় ভালোয় চারা রোপনের কাজ শেষ করতে।

উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউপি’র আন্দুয়া গ্রামের বোরো চাষী আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, বেতকাপার হরিপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, সদর ইউপি’র হামিদ মন্ডল ও বরিশাল ইউপি’র মমিনুল ছাড়াও অন্যান্য ইউপি’র বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত বন্যায় আমন ও বেরো চাষে লাভ-লোকসানে হিসেব গুলিয়ে ফেলেছেন তারা। বিগত আমন মৌসুমে হাট-বাজার গুলোয় খুচরা ও পাইকারী কেনা-বেচায় উৎপাদিত ধানের উচিৎ মূল্য গেলেও এ উপজেলার কৃষকেরা বন্যার কারণে হয়েছেন বঞ্চিত। অতীত ভুলে নতুন চিন্তা-ভাবনায় ভবিষ্যতের আশায় খেয়ে না খেয়ে কৃষককূল তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় মেরুদন্ড শক্ত করে পুনরায় মাঠে নেমেছেন ইরি-বোরো চাষে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আজিজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ উপজেলায় কৃষকরা প্রস্তুতকৃত জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা লাগাতে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সর্বসাকূল্যে ইরি-বোরো রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য