02 17 19

রবিবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ইং | ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - দিনাজপুরে পারিশ্রমিক নিয়ে নারী শ্রমিকদের ক্ষোভ

দিনাজপুরে পারিশ্রমিক নিয়ে নারী শ্রমিকদের ক্ষোভ

দিনাজপুরে পারিশ্রমিক নিয়ে নারী শ্রমিকদের ক্ষোভদিনাজপুর সংবাদাতাঃ ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে শুরু হয়ে গেছে আগাম বোরো রোপন। চারা রোপন করতে কৃষক-কৃষানী ও শ্রমিকরা কোমড় বেধে মাঠে নেমে পড়েছেন। এবছর জেলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে নারী শ্রমিক ও কৃষানীদের পারিশ্রমিক নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

App DinajpurNews Gif

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৫ হেক্টর উফশী ও ১৭ হাজার ৯৩৬ হেক্টর হাইব্রিড জাত রয়েছে। রোপনকৃত বোরো থেকে উৎপাদন হবে ৫৫ হাজার ৯৭৮ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে উফসী জাতের ৪৮ হাজার ৮৪০ মেটিক টন ও হাইব্রিড হাতের ৭ হাজার ১৩৮ মেট্রিক টন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাশিমপুর, সিকদারহাট, গোপালগঞ্জ, বিরল উপজেলার তেঘরা, বাজনাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধান উৎপাদনকারী শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে মাঠে মাঠে চলছে কৃষক-কৃষানী ও শ্রমিকদের দিয়ে রোপন কাজ। আগামী ১ মাসের মধ্যে মধ্যে সব জমিতে রোপন কাজ শেষ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে বোরো চারা রোপন করা হয়েছে। তবে নারী শ্রমিক ও কৃষানীদের পরিশ্রম নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। কিছু কিছু স্থানে পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে নারী শ্রমিকদের পারিশ্রমিক অনেক কম দেয়া হয়।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাশিমপুর গ্রামের কৃষানী সখিনা বেগম জানান, আমরা প্রতিবছর মানুষের জমিতে ধানের চারা রোপন করি। অন্যান্যবার আমাদের পারিশ্রমিক ঠিক দেখা হলেও এবছর আমাদের পারিশ্রমিক পুরুষদের চেয়ে অনেক কম দেয়া হচ্ছে। একজন পুরুষ সারাদিনের পারিশ্রমিক পান ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। অথচ নারী শ্রমিকদের সারাদিনের পারিশ্রমিক দেয়া হয় ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা।

বিরল উপজেলার তেঘরা গ্রামের কৃষানী করিমা বেগম জানান, আমরা অন্যান্যবার পুরষের মত পারিশ্রমিক পেলেও এবার সব জায়গায় আমাদের পারিশ্রমিক অনেক কমে দেয়া হয়। অথচ পুরুষদের মতই আমাদেরকে কাজ করতে হয়। বর্তমান যুগে নারী-পুরুষ সব জায়গায় সমান সুযোগ পায়। কিন্তু আমাদের পারিশ্রমিক নিয়ে বৈষম্য কেন?

সদর উপজেলার সিকদারহাট গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ  জানান, তিনি ৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ শ্রমিক দিয়ে নিজের জমিতে বোরো চারা রোপন করেছেন। এবছর নারী শ্রমিকদের ২৬০ টাকা ও পুরুষ শ্রমিকদের ৩৮০ টাকা করে দিয়েছেন। অন্যান্য জমির মালিকরা যেভাবে পারিশ্রমিক দিয়েছেন আমিও তাদেরকে সেই ভাবে পারিশ্রমিক দিয়েছি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, এপর্যন্ত প্রায় ২০ ভাগ জমিতে বোরো রোপন করা হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আগামী ১ মাসের মধ্যে বাকী জমিতে বোরো রোপন করা হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কৃষকদের পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য