দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠিতদিনাজপুর সংবাদাতাঃ নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি “রজত জয়ন্তী” অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ।

৯ ফেব্র“য়ারী শনিবার দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে কলেজের কলেজের বাংলা বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি “রজত জয়ন্তী” অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শামসুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, মানুষের জ্ঞান ও চিত্তের উৎকর্যের জন্য মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য, চরিত্র গঠন ও মানবীয় মূল্যবোধের জন্য সর্বপরি মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাই হচ্ছে মূল হাতিয়ার। তিনি বলেন, হৃদয়ে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। জ্ঞান অর্জন করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে সর্বত্ত। শিক্ষাই জাতির উন্নয়ন ও মানব উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

সভাপতির বক্তব্যে দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শামসুল আলম বলেন, মানুষ স্বভাবতই স্মৃতিকাতর। যা বর্তমানে বহমান তার চেয়ে অপস্মৃত দিন বেশি আকর্ষনীয় মনে হয়। এজন্য ফিরে ফিরে চাওয়া এবং ফিরে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা মানুষকে আকুল করে। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে পরস্পরের সাথে নানারূপ বন্ধনে আমরা আবদ্ধ হই, যুুগবদ্ধ হই। গড়ে উঠে কমিউনিটি। মানুষের নিত্য প্রয়োজন মেটাতে এই কমিউনিটি বা যুথবদ্ধতা জীবনের জন্য এক অপরিহার্য বিষয়। আমরা আবার বিচ্ছিন্নও হই। এই বিচ্ছন্নতাও ঘটে জীবন জীবিকারই তাগিদে। কিন্তু অতিতকে আমরা ভুলি না। সুযোগ পেলেই ছুটে যাই পিছনে, অতিতের কাছে। সেখান থেকে তুলে নেই অনেক কিছুই। প্রেরণা, উদ্দিপনা যার যা প্রয়োজন। পুরাতনের সাথে পুনর্মিলনের এই আকাঙ্খা থেকেই পালিত হয় নানা নামের অনুষ্ঠান ও আয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ আরো বলেন, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে ‘মিলনের’ এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলা বিভাগের “রজত জয়ন্তী” কে ঘিরে। ১৯৯৪সালে যাত্রা শুরু। সেই থেকে আজ। এই দীর্ঘ সময়ে কত জনের কত অভিজ্ঞতা, কত স্মৃতি জমে আছে। ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী এই স্মৃতিময় নাটকের পাত্র-পাত্রী। পড়া ও শেখা কে ঘিরে এই ত্রয়ী মিথস্ত্রি“য়া শিক্সা প্রতিষ্ঠানের অনুপম একটি আয়োজন। এই আয়োজনের মাধ্যমে জানা এবং বোঝার মধ্য দিয়ে সৃজন ও সমৃদ্ধির নব দ্বার উদ্ঘাটিত হয়। উন্মোচিত হয় মেধা ও মনন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ছাইয়েদুল হক, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোঃ আবেদুর রহমান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আতিউর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোজাম্মেল হক, ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর অর্চনা অধিকারী, দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিত বিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর রজব আলী মোল্লা, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় শিক্ষক মোঃ আশিকুল্লাহ্ শাহ, সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হীরক কুমার দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোঃ তারিকুল ইসলাম।

আলোচনার পূর্বে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিন করে। দুপুরের পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য