থাই রাজকুমারীর নির্বাচনি প্রচারণা বাতিল করলো দলথাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দেশটির রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি’র পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা বাতিল করেছে তার দল। রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণ রাজকন্যার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতার পরই এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাই রাকসা পার্টি রাজকীয় আদেশ মেনে চলে চলবে। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার রাজনৈতিক দল থাই রাকসা পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন রাজকুমারী।

এর আগে রাজার সমালোচনার জবাবে রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি বলেছিলেন, সব ধরনের রাজমর্যাদা ত্যাগ করে তিনি এখন সাধারণ নাগরিকের মতো জীনযাপন করেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়ে নিজের অধিকারের চর্চা করতে চান তিনি।

সাংবিধানিক গণতন্ত্রের দেশ থাইল্যান্ডে আগামী মার্চে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৩২ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত রাজপরিবারের কোনও সদস্য প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে অংশ নেননি। এবার রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলেও বোনের এ পরিকল্পনাকে অগ্রহণযোগ্য ও অসাংবিধানিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাজা।

১৯৫১ সালে জন্ম নেওয়া রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গ্রাজুয়েট। ১৯৭২ সালে এক আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করেন তিনি। বিদেশিকে বিয়ে করে রাজমর্যাদা ত্যাগ করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০১ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে তিনি রাজকীয় যাপনে অংশ নিতে শুরু করেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করলে থাই রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণ বলেন, লিখিতভাবে পদমর্যাদা ত্যাগ করলেও তিনি (রাজকন্যা) এখনও রাজমর্যাদা ভোগ করেন এবং রাজপরিচয় বহন করেন। মূলত রাজার ওই ঘোষণার পরই তার নির্বাচনি প্রচারণা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় থাই রাকসা পার্টি।

বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সামরিক অভ্যুত্থানে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওচার অধীনে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছোট বোন ছিলেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। বতর্মানে দুজনই স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকলেও থাই রাজনীতিতে তাদের প্রভাব রয়ে গেছে। দেশের অনেকেই এখনও তাদের অনুগত। এমন পরিস্থিতে তাদের ঘনিষ্ঠ একটি দলের হয়েই নির্বাচন করতে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি। তবে শেষ পর্যন্ত সে উদ্যোগ ব্যাহত হয়।

থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র অবমাননা আইন বেশ কঠোর। তবে কৌশলগতভাবে ‘লেস ম্যাজেস্টি’ নামের ওই আইনের আওতায় পড়েন না রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি। তা সত্ত্বেও থাইল্যান্ডে রাজপরিবারের সমালোচনা বেশ বিরল। দেশটিতে রাজপরিবারকে সম্মানের চোখে দেখা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য