দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনায় চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আবদুল বারী (৫০) নামে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ হামলার ঘটনাটি গত ৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টায় উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের ভজুপাড়ার পাশে আলুক্ষেতে ঘটেছে। বর্তমানে আবদুল খালেক ও আবদুল বারীর ছেলে মুসা আশংকাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নান্দেড়াই গ্রামের মৃত ধনিবুল্লাহর ছেলে আবদুল গনি ও আবদুল বারী নামে আপন দুই ভাইয়ের লোকজনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৪জন গুরুতর আহত হয়। আবদুল গণির ছেলে আবদুল ওয়াদুদের উপুর্যপুরি ছুরির আঘাতে আবদুল বারী পক্ষের আবদুল খালেক নামে একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এছাড়াও আবদুল বারী ও তার স্ত্রী আকতার বানু ও ছেলে মুসা ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় আবদুল বারী মৃত্যুবরণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শি কয়েকজন জানান, ঘটনার দিন বড়ভাই আবদুল গণির লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিবাদপুর্ণ জমিতে কাজ করতে গেলে ছোট ভাইয়ের লোকজন এতে বাঁধা দেয়। উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হলে স্থানীয় লোকজন উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছোট ভাই আবদুল বারীর লোকজন বড়ভাই আবদুল গণির মেয়ে তহমিনা বেগমসহ ছেলেদের ধাওয়া করে ভজুপাড়ার সন্নিকটে আলুক্ষেতে আসামাত্র তহমিনাকে মারপিট করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তহমিনার বড়ভাই আবদুল ওয়াদুদ বোনের হাতে থাকা ছুঁরি নিয়ে বিপক্ষ লোকজনের উপর এলোপাথারী আঘাত করে। আঘাতে আবদুল বারী পক্ষের আবদুল খালেক নামে একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়াও আবদুল বারী ও তার স্ত্রী আকতার বানু ও ছেলে মুসা ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়।

আব্দুল খালেকের ছেলে দেলোয়ার হোসেন জানান, আবদুল গণির ছেলে আবদুল ওয়াদুদ বাবাকে ছুরি দিয়ে চোট দিলে বাবার পা সম্পুন্য কেটে যায়।ওই জমি নিয়ে তাদের দীর্ঘ অন্তত ৩০ বছর ধরে বিবাদ হয়ে আসছে। বিবাদপূর্ণ ৬ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা এবং উচ্চ আদালত থেকে ওইজমির উপরে ১৪৪ ধারা জারি করা ছিল।

স্থানীয় ওছিমদ্দিনের ছেলে আসাদুল হক জানান, আবদুল বারী জীবিত থাকতে আমাকেসহ আরও কয়েকজনকে ২ বিঘা জমি আদালতের মাধ্যমে লিখে দিয়েছে। তিনি আরো জানান, আবদুল গণির কাছ থেকে জমি উদ্ধারে সহযোগিতা করার আশ্বাসে এ জমি তিনি তাদের লিখে দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, তাদের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় ইউপি চেয়ারম্যান, এলাকাবাসি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশ মিমাংসা বসলেও কোন সমাধান হয়নি। আদালতে জমি সংক্রান্ত ৪টি মামলা চলছে।

চিরিরবন্দর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. হারেসুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় গত ৫ ফেব্রুয়ারী আহেদুল বাদি হয়ে আবদুল গণি ও তার ছেলে আবদুল ওয়াদুদ (৪৫), আবদুল কুদ্দুস (৪২), আবদুস সালাম (৩৫), আবুল কালাম (২৬), মতিউর রহমান (২২), এবং মেয়ে ফাতেমা (২০), নুর বেগম (১৯), তহমিনা (১৮) ও বুলবুলি (১৭) সহ ১১ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩। যেকোন বিনিময়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই লিটন জানান, আবদুল বারীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যাই। প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত করাতে সহযোগিতা করি। তাছাড়াও কাঁটা পা নিয়ে আদালতে যাওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করছি। অভিযানকালে পলাতক অপরাধীদের থানা এলাকার মধ্যে কোথাও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য