ডিমলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ র‌্যালী ও মানববন্ধনউপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও প্রধান আসামী ভূমিদুস্য সন্ত্রাসী শাহ আলমসহ সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ র‌্যালী করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড।

(৬ ফ্রেব্রুয়ারী) বুধবার দুপুরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি অম্লান চত্ত্বরে ঘন্টা ব্যাপী এ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন আহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল হকের স্ত্রী নাজমা গোলাপ, মুক্তিযোদ্ধা ফকরুজ্জামান,আমিনু রহমান, নুর হোসেন, বাসদ (মাহবুব) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লিটন তালুদার, শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান হাবলু লোহানী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মহববত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সদরুল আলমসহ আরো অনেকে।

মানববন্ধনে প্রায় উপজেলার তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা জনতা ও সন্তানেরা অংশগ্রহন করেন। এর আগে একটি বিক্ষোভ র‌্যালী শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। মানববন্ধনে গুরুতর আহত বীরমুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নাজমা গোলাপ সন্ত্রাসী শাহ আলমসহ দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির বিচার চেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দিন ধরে জমি সংক্রান্ত রিবোধের জেড়ে প্রতিপক্ষের আঘাতে ডিমলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল হক আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২ ফ্রেব্রুয়ারী শনিবার বিরোধপূর্ন ঐ জমি প্রতিপক্ষ শাহ আলম গং জবর দখলের চেষ্টা করলে ভোগদখলীয় জমির মালিক নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ সামছুল হক প্রতিপক্ষকে বাঁধা দেয়ায় শাহ আলমের হুকুমে আসামীরা মুক্তিযোদ্ধার বুকের পাঁজর ভেঁঙ্গে দেয়।

ফলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক ডিমলা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুত্র গোলাম রাব্বানীকে দিয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ (এজাহার) ডিমলা থানায় দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, ঘটনার দিন উপজেলার বাবুর হাট মৌজার জেএল নং- ৩০, খতিয়ান নং- ৮৭/৩, দাগ নং-সাবেক ৪৭৫,৪৭৬, হালদাগ-৮০৬, ডিপি-২২৪ এ ৪৫ শতাংশ বিরোধপূর্ন জমি দীর্ঘদিন ধরে মৃত আবুল মনছুরের পুত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক গং ৭ জানুয়ারী’৮০ দলিল নং-১৪২ এবং ২১ সেপ্টেম্বর’৮০ দলিল নং- ৭৯৮৯ মুলে ভোগদখল করে আসছে। একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন ওরফে ঘুঘু মফিজের পুত্র শাহ আলম মিথ্যা মামলা আদালতে দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। মামলা চলমান অবস্থায় ভোগদখল নিজের পক্ষে দেখানোর কৌশলে প্রতিপক্ষ শাহ আলম গং ঐ বিরোধপূর্ন জমিতে পানি উঠিয়ে হাল চাষ করিতে থাকে।

এ সময় বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক জমি চাষের কারন জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ দলবদ্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হককে লোহার রট, লাঠি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। ফলে ঘটনাস্থলেই বীরমুক্তিযোদ্ধার বুকের পাঁজর ভেঙ্গে মাটিথে লুটিয়ে পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে ভাই আব্দুর রহমান ও আব্দুর রহিম বাদশা উদ্ধার করে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কতর্ব্যরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাশেদুজ্জামান রাশেদ আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন।

বর্তমানে বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪ তলার ১৫ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তেলের পাম্প ব্যবসায়ী শাহ আলম টাকার জোড়ে আমার স্বামী বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩৯টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

যার ৬টি মামলা থেকে ইতিমধ্যেই অব্যহতি পেয়েছি আমরা। অথচ আমার স্বামী ও পরিবারের লোহজন একটি মামলাও তার বিরুদ্ধে করেনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত মফিজ উদ্দিনের পুত্র শাহ আলমকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নম্বর- ০২, তাং ৪ জানুয়ারী’১৯।

এ ব্যাপারে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, মামলা নথিভূক্ত করে ৮ নং আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য