আব্দুল মান্নান, হাবিপ্রবি: ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েও টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না গোলাপী বানু। এমন খবর পাওয়ার পর তার ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে একটা পোষ্ট দিতেই এগিয়ে আসেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের জেনেটিক্স এন্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল গাফফার মিয়া।

প্রফেসর ড. আবদুল গাফফার মিয়া বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, এক জনের সমস্যায় আর একজন পাশে এসে দাঁড়াবে এটাই মানুষের সহজাত ধর্ম।

অর্থাভাবে হাবিপ্রবিতে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রী’র পাশে হাবিপ্রবি প্রফেসরতিনি আরো বলেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু দয়া পরবশ হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তাহলে কোন দরিদ্র বাবা-মা’র মেধাবী সন্তানকে আর অপ্রস্ফুটিত গোলাপ কলির মত অকালেই ঝড়ে পড়তে হতো না।

এ বিষয়ে গোলাপীর বাবার সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, “স্যার অত্যন্ত উদার এবং আন্তরিক একজন মানুষ। টাকার অভাবে আমার মেয়ের ভর্তি প্রায় অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো, ভেঙে যাচ্ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন। তিনি যদি এগিয়ে না আসতেন তাহলে আমার মতো দিনমজুর বাবার পক্ষে এক সংগে এতো টাকা দেয়া সম্ভব ছিলনা। আমি স্যারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। স্যারের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে শিক্ষকরা বুঝি এমনই আদর্শবান হয়। তিনি আমাকে ও আমার মেয়েকে উৎসাহ ও সাহস দিয়েছেন, বলেছেন পৃথিবীতে যারা বড় হয়েছেন তারা প্রায় সবাই গরীব ছিলেন, জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বড় হয়েছেন, আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন। আমার গোলাপীও যেন ভালভাবে লেখাপড়া করে অনেক বড় কিছু হতে পারে সেই দোয়াও করলেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী গোলাপী হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় এ” ইউনিটে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় শিফটে দ্বিতীয় স্থানলাভ করে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় টাকার অভাবে অনিশ্চিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য