সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে ভ্রাতৃত্ব ও সম্মিলনের অঙ্গীকারসংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে ভ্রাতৃত্ব ও সম্মিলনের অঙ্গীকার করেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সফরের অংশ হিসেবে সোমবার মিসরের ঐতিহাসিক আল আজহার মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড ইমামের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ইতি টানার তাগিদ দেওয়া হয় এতে।

বিভিন্ন দেশের ইসলাম, খ্রিস্টান, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মের নেতাদের সামনে এ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন দুই ধর্মীয় নেতা। ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের পর দুই নেতার চুম্বনের দৃশ্য ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

পোপ ফ্রান্সিস যেমন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু তেমনি মুসলমানদের কাছে আল আজহার মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড ইমাম শেখ আহমেদ আল তায়েব-এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আল আজহারকে মুসলিম জাহানের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আন্তঃধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের নিদর্শনস্বরূপ দুই নেতা পরস্পরের হাতে হাত রাখেন। অঙ্গীকার করেন উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের।

দুই নেতার যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করি, ধর্ম কখনোই যুদ্ধ, ঘৃণ্য মনোভাব, শত্রুতা, চরমপন্থা, সহিংসতা ও রক্তপাতকে জাগ্রত করে না।

মঙ্গলবার আমিরাতে এক লাখ ২০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে পোপের। এই ভাষণে ইয়েমেন যুদ্ধের বিষয়ে তিনি কী বলেন সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে।

ইয়েমেনে অবরোধ করা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে, যেই অভিযানের সমালোচনা করে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন পোপ। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পোপ আহ্বান করেছিলেন যেন ‘ইয়েমেনে চলমান মানবিক বিপর্যয়কে আরো দুর্বিষহ’ করে তোলা না হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১০ লাখ রোমান ক্যাথলিক রয়েছেন যাদের সিংহভাগ ফিলিপাইন বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য