ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই অধিকৃত কাশ্মির উপত্যকা সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে উপত্যকার স্বাধীনতাকামী নেতারা। তবে সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতেই তার এ সফর। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, রবিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়া বিরোধপূর্ণ এই অঞ্চল পরিদর্শন করছেন মোদি।

নরেন্দ্র মোদির সফরকে নিরাপদ করতে কাশ্মিরে ট্রেন ও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি স্বাধীনতাকামী নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

কাশ্মিরের আলাদা আলাদা অংশের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ভারত ও পাকিস্তান। তবে দুই দেশই পুরো উপত্যকা নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৮৯ সাল থেকে ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশে স্বাধীনতার দাবি করে আসছে সেখানকার বাসিন্দারা। তাদের অনেকে পাকিস্তানের সঙ্গে অঙ্গীভূত হওয়ার পক্ষে। অনেকে আবার স্বাধীন কাশ্মির প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার।

স্বাধীনতার দাবিতে মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন দমনে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় কাশ্মিরের প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দা নিহত হয়েছে। এই উপত্যকার ভারতবিরোধী মনোভাবের শিকড় বেশ গভীরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে স্বাধীনতাকামীদের হামলা এবং প্রকাশ্য বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে।

মোদির সফরের প্রতিবাদে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্ব নামে পরিচিত তিন কাশ্মিরি নেতা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাশ্মিরি জনগণের প্রতিরোধ প্রতিহত করতে যে ব্যক্তি হত্যা, সম্পদ নষ্ট, অর্থনীতি ধ্বংস এবং অন্যান্য নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন সেই ব্যক্তি নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুধু বিক্ষোভের আশাই করতে পারেন।’

মোদির সফরের আগের রাতে আটক করা হয় স্বাধীনতাকামী বেশ কয়েকজিন অ্যাকটিভিস্টকে। আর শ্রীনগরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে স্বাধীনতাকামী নেতাদের গৃহবন্দি করা হয়। বিক্ষোভ ঠেকানোর নিয়মিত আয়োজন হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ও উপত্যকার ট্রেন সেবা।

এমন পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে চীন পাকিস্তান সীমান্তবর্তী দুর্গম পার্বত্য এলাকা লাদাখে পৌঁছান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি। কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের মূল শহর শ্রীনগর সফরের কথা রয়েছে মোদির। সেখানকার রাস্তায় চলছে সীমিত সংখ্যক যানবাহন। জম্মুর হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য