ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে ৬ মাসের মধ্যে সরছে যুক্তরাষ্ট্ররাশিয়া সহযোগিতা না করলে ছয় মাসের মধ্যে তিন দশক পুরনো একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ‘চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৮৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তিটি হয়েছিল। এর ফলে উভয় পক্ষকেই ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী মস্কো ও ওয়াশিংটন যেন নতুন করে ইউরোপে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন না করতে পারে, সে বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

আইএনএফ চুক্তি থেকে সরে গেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্যে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো বাধা থাকবে না, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, আইএনএফ চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে যে বাধ্যবাধকতা ছিল, শনিবার থেকে ওয়াশিংটন তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত রাখছে।

এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তি থেকে সরে যেতে চায়, রাশিয়াকে সে বিষয়ে ‘স্পষ্ট বার্তা দেয়া হল’, জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

চুক্তিটির পুনর্বাস্তবায়ন চাইলে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনায় সম্মত হতে রাশিয়াকে ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মস্কো দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তির লংঘন করে আসছে বলেও অভিযোগ তাদের। রাশিয়া শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ পদক্ষেপ মস্কোর ওপর চাপ বাড়ালেও এর ফলে ইউরোপকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে বলে শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। এশিয়ায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও উত্তেজনা বাড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকদিন ধরেই নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করতে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বাইরে অন্যান্য দেশকে অন্তর্ভূক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

“আমার আশা সবাইকে নিয়ে একটি বড় ও সুন্দর কক্ষে বসে একটি নতুন চুক্তি করার, যা আগের চেয়ে অনেক ভাল। সত্যিকার অর্থে আমি তা-ই দেখতে চাই,” সাংবাদিকদের বলেন রিপবালিকান প্রেসিডেন্ট।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সঙ্গে মস্কোর আঁতাত হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুমান করলেও এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মেয়াদেই মস্কো ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বাজে সময় পার করছে বলে ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।

“যদি রাশিয়া ছয় মাস সময়ের মধ্যে চুক্তির বিষয়ে সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য সহযোগিতা না করে, আইএনএফ চুক্তির লংঘন ঘটানো ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও অন্যান্য সরঞ্জাম যাচাইযোগ্য উপায়ে ধ্বংস না করে, তাহলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে,” বলেছেন পম্পেও।

রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নভোতর ৯এম৭২৯ চুক্তিটি লংঘন করছে বলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবারই অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। মস্কো ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হবে না বলে জানিয়েছে।

পম্পেওর ঘোষণার আগেই ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রের এ ‘অযৌক্তিক আচরণের’ সমালোচনা করেন।

“কোনো ধরনের যুক্তি না শোনা ও আলোচনা না করার ইচ্ছা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তারা (ওয়াশিংটন) আগে থেকেই চুক্তিটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল,” বলেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য