ডিম দিতে শুরু করেছে হাবিপ্রবি’র উটপাখিআব্দুল মান্নান,হাবিপ্রবি।।দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের অডিটোরিয়াম-২-এর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি উটপাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির খামার। আজ প্রথম বারের মতো ডিম দিয়েছে একটি উটপাখি ।

প্রধান গবেষক ও জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিমল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল গাফফার মিয়া বলেন, আজ প্রথম বারের মতো ডিম দিয়েছে একটি উট পাখি ।ডিমের ওজন প্রায় ১ কেজি ১০০ গ্রাম হয়েছে ।আমরা ‘উটপাখি নিয়ে গবেষণায় আশাবাদী। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের বৃদ্ধি ঠিকই আছে, যদিও উহারা মরুভূমির পাখি।

তিনি আরও বলেন, বানিজ্যিক ভাবে উটপাখির খামার করার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের দেশে । একটি উটপাখির বাচ্চার দাম ১৫-২০ হাজার টাকা। উট পাখির মাংস বেশ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এদের খাদ্য সহজলভ্য। এরা নেপিয়ারসহ যে কোনো ঘাস, লতা-পাতা পোলট্রি ফিড ও পাথর খেতে পারে ।

ডিম দিতে শুরু করেছে হাবিপ্রবি’র উটপাখিএকারনে আমি মনে করি গরু পালনের চেয়ে উটপাখি পালন বেশি লাভজনক হবে। কারণ উটপাখি ৩০ থেকে ৪০ বছর উৎপাদনক্ষম থাকে এবং এরা ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বাচতে পারে। আর এদের দৈহিক বৃদ্ধি ও বাচ্চা (ডিম) উৎপাদন গরু-ছাগলের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার আমাদের দেশে লাভজনক হবে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার গড়ে উঠলে তা বিকল্প প্রাণীজ আমিষের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়াবে।

ভেটেরেনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের লেভেল ৪ এর শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান জানান, অনেক দিন ধরে আমরা উট পাখি গুলো লালন পালন করছি । দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর আজ উট পাখির ডিম দেখে খুবই ভাল লাগছে ।মনে হচ্ছে আমাদের প্রচেষ্টা পরিশ্রম সফল হয়েছে ।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুই মাস বয়সের উটপাখির ছানা আনা হয়েছে হাবিপ্রবিতে।বিভিন্ন কারণে কিছু উট পাখি মারা গেলেও এখন ছোট (১৫টি) বড় (৪টি) মিলে প্রায় ১৯টি উটপাখি রয়েছে । উট পাখির পূর্ণবয়স্ক হতে প্রায় আড়াই বছর লাগে এবং সেই সময় থেকে এরা ডিম দেয় । একেকটি ডিম দেড় থেকে দুইকেজি পর্যন্ত হয়। বছরে একেকটি উটপাখি ২০ থেকে ১০০টি ডিম পাড়ে। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির মাংস দুই মণ বা তার বেশিও হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য