যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ এমপির কারাদণ্ডনির্ধারিত গতিসীমার অতিক্রম করে যাওয়ায় জরিমান টিকিট পেয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের এমপি ফিওনা ওনাসানিয়া। তবে সেই জরিমানা থেকে বাঁচতে মিথ্যা বলায় কারাদণ্ড ভোগ করতে যাচ্ছেন এই এমপি। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত তাকে এই শাস্তি দেন।

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ফিওনা ওনাসানিয়া রাস্তায় নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেন। তিনি সর্বোচ্চ ৩০ মাইল গতিসীমার রাস্তায় ৪১ মাইল বেগে গাড়ি চালালে রাস্তার গতি পর্যবেক্ষক ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়ে। পড়ে নিয়মানুযায়ী গতিসীমা লঙ্ঘনের অপরাধে তার বাসায় জরিমানা টিকিট পাঠানো হলে, তিনি তার দোষ অস্বীকার করেন।

এমনকি তিনি দাবি করে বসেন, ওই সময়ে তিনি গাড়িতে ছিলেন না। বরং তার ভাই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বোনের দোষ নিজের কাঁধে নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে ওনাসানিয়ার ভাইও একই দাবি করেন।

তবে পরবর্তীতে আদালত ওইদিন ওনাসানিয়ার গাড়ি চালানোর প্রমাণ পান। এমনকি এও প্রমাণিত হয়, গতিসীমা লঙ্ঘনের সময় তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। সেজন্যই আদালতে মিথ্যাচার ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার দায়ে এই এমপিকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। তার সঙ্গে তার ভাইকে ফেটাস ওনাসানিয়াকেও একই দায়ে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

যুক্তরাজ্যের ২৮ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো এমপিকে কারাদণ্ডের শাস্তি দিলেন আদালত। এর আগে ১৯৯১ সালে ৩৭৩ পাউন্ডের বা প্রায় ৪০ হাজার টাকা ‘পোল ট্যাক্স’ না দেওয়ার অপরাধে ৬০ দিনের কারাদণ্ড পান তৎকালীন এমপি টেরি ফিল্ডস। তবে যুক্তরাজ্যের কোনো এমপিকে আদালতের দেওয়া এটিই সর্বোচ্চ শাস্তি।

ফিওনা ওনাসানিয়া দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি। তবে তার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যাচার ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনার পরেই তাকে দল ঠে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে বহাল আছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য