দিনাজপুরে মরণ কামড় দিতে শুরু করেছে ঠান্ডাদিনাজপুর সংবাদাতাঃলোকের মুখে শোনা যায়… মাঘের ঠান্ডায় বাঘও কান্দে। দিনাজপুরে মরণ কামড় দিতে শুরু করেছে ঠান্ডা। দিনাজপুরে তীব্র শীত ও বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাতাসের তীব্রতার ফলে মানুষের দুর্ভোগ আর কষ্ট বেড়েছে। আজ বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে গত ক’দিন ধরে তীব্র শীতের কামড়ে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে শীতের সাথে কুয়াশা ও বাতাসের কারণে ঠান্ডার তীব্রতা জেকে বসেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। শীত নিবারনে পুরাতন কাপড়ের মার্কেটে নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত মানুষের ভীড় বেড়েই চলছে। কনকনে ঠান্ডা জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে নিম্ন আয়ের লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

গত কয়েক দিনের তীব্র বাতাসের কারণে ঠান্ডায় নিম্ন আয়ের লোকজন যেমন কাহিল হয়ে পড়েছে তেমনি প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন যাপনেও ছন্দপতন ঘটছে। দিনাজপুরে মরণ কামড় দিতে শুরু করেছে ঠান্ডাগত ৩দিন ধরে তীব্র শীতের সাথে সাথে বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে সূর্য দেখা গেলেও বিকেল সাড়ে ৪টা বাজতেই বাড়তে থাকে শীত ও বাতাসের তীব্রতা। রাত হতে না হতেই শহরের হাট বাজারগুলো জনশুন্যে পরিনত হয়ে যায়। তীব্র ঠান্ডার কারণে খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছে বেকায়দায়।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন (৬৭) জানান, তীব্র ঠান্ডার কারণে আমরা ঠিক মত কাজ করতে পারি না। অভাবে সংসারে কাজ না করলে কে খাওয়াবে। দিনে আনি দিনে খাই। ঠান্ডায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। মাঠে কাজ করতে গেলে পানিতে ঠান্ডা লাগে। কি করব কাজ তো করতেই হবে। কাজ না করলে খাওয়াবে কে আমাদের।

দিনাজপুরে মরণ কামড় দিতে শুরু করেছে ঠান্ডাদিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আহাদ আলী জানান, তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও বাতাসের কারণ বেশি করে শিশু ও বৃদ্ধার বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। হঠাৎ করে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়ায় শিশু ও বৃদ্ধাদের নিউমোনিয়া, জ্বর ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

দিনাজপুরের আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, আজ বুধবার (৩০ জানুয়ারী) ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রকম আবহাওয়া আরও ৩/৪ দিন থাকবে। তিনি বলেন, এবার শৈত্য প্রবাহ কমে গেলে আর বড় কোন শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা নেই।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে ইতিপূর্বে ৩৭ হাজার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় থেকে ৬৫ হাজার পিস কম্বল পাওয়া গিয়েছিল। যা দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ইতোমধ্যে পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, শীতের তীব্রতা থেকে অসহায় মানুষকে রক্ষা করার জন্য আরও ৫০ হাজার পিস কম্বল চেয়ে জরুরী বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। তবে জেলা ত্রাণ ভান্ডারে কিছু শীতবস্ত্র রয়েছে। যা জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের লোকজন রাতে শীতার্তদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিতরণ করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য