রংপুরে আইনজীবী রথিশ চন্দ্র হত্যা মামলায় স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডরংপুরের আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ নিযামুল হক আদালতে স্নিগ্ধাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল মালেক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ রংপুর নগরীর আলমনগরের বাবুপাড়া মহল্লার বাসা থেকে নিখোঁজ হন বাবু সোনা। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ও প্রেমিক কামরুল ইসলামকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাদের দেওয়া জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়া গ্রামে কামরুলের বাসার ভেতরে গর্ত করে রাখা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রথিশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ও কামরুল ইসলামকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত স্নিগ্ধা সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, বিজ্ঞ বিচারক রায় ঘোষণার সময় তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামি স্নিগ্ধা সরকার তার স্বামীর সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

স্বামী স্ত্রীর একটি পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, সেই পারিবারিক বন্ধন ও মর্যাদাকে তিনি ক্ষত-বিক্ষত করেছেন। তার দুই সন্তান থাকার পরেও তিনি কামরুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। তারা দুজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছেন এ ঘটনা। তিনি স্বামীকে হত্যা করে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের প্রতি কুঠারঘাত করেছেন, সে কারণে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।

রায় ঘোষণার সময় নিহত আইনজীবী বাবু সোনার ছোট ভাই মামলার বাদী সুশান্ত ভৌমিক, তার তিন বোন ও নিহত বাবু সোনার একমাত্র ছেলে উপস্থিত ছিলেন আদালতে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য