সৈয়দপুরে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, আটক ৬জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরের পল্লীতে ভেড়ার খামারে স্বামী-স্ত্রী হত্যাকান্ডের ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

সুনির্দিষ্ট ৪ জনকে আসামী করে মামলা হলেও তাদের গ্রেফতার করা বা ঘটনার সাথে জড়িতদের কোন হদিস বের করতে না পারায় নিহতের পরিবারের লোকজন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। সন্দেহভাজন যে ৬ জনকে আটক করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মামলার আসামী খামারের জমির মালিক হাজী আসলামের ছেলে সজল থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকেসহ সবাইকে কেন ছেড়ে দেয়া হয়েছে তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের পরিবার।

গত ২৬ জানুয়ারী দিবাগত ভোর রাতের যে কোন সময় খামারের মালিক নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সালমা বেগমকে দূর্বৃত্তরা গলা কেটে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। পরের দিন খবর পেয়ে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় আহত খামারের কেয়ার টেকার আব্দুর রাজ্জাককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জমির মালিক হাজী আসলাম, তার ছেলে লেবু, সজল ও এলাকার আব্দুর রশিদ, আব্দুল আজিজসহ কাজের মেয়ে রহিমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ২৮ জানুয়ারী নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে সোহেল বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামীরা হলেন, হাজী আসলামের ছেলে সজল (২৫), তার বন্ধু সুজাত (২৫), কেয়ার টেকার আব্দুর রাজ্জাক (৩২) ও কাউয়া (৫০)।

এ হত্যাকান্ড নিয়ে এলাকায় একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইতিপূর্বে প্রায় ৩৫ বছর আগে বীনাপানি নামে এক হিন্দু মহিলাকে গলা ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছিল। এবারের হত্যাকান্ডটিও একইভাবে ঘটানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে ও মামলার বাদি সোহেল জানান, আমার বাবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সৈয়দপুর পৌর শাখার ৮ নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি। তিনি গত প্রায় ১৮ মাস আগে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের বালাপাড়ায় হাজী আসলামের ১ একর ৮০ শতক জমি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে ভেড়ার খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু কিছুদিন হলো হাজী আসলাম ও তার ছেলেরা ওই জমিটি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।

হত্যাকান্ডের প্রায় ৪ দিন আগেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জমির মালিক হাজী আসলামের ছেলে সজল খামারের কেয়ার টেকার আব্দুর রাজ্জাককে খামার ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। যা আব্দুর রাজ্জাক আমাদের জানিয়েছে। এর আগে হাজী আসলাম ও তার ছেলে একইভাবে আমার বাবাকেও হুমকি দিয়েছিল।

এ কারণে আমরা সন্দেহ করছি যে কেয়ার টেকার আব্দুর রাজ্জাককে হাত করে সজলই তার বন্ধু সুজাত ও কাউয়াসহ এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু পুলিশ সজলকে আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দিয়েছে। ৪দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিদের কোন হদিস করতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে আমরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছি। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, পুলিশের তদারকির অভাবে এবং অপরাধ করলে আইনের হাতে ধরা পড়তে হবে এনিয়ে মানুষের ভয় না থাকায় এমন ঘটনা গুলো ঘটছে। এলাকায় কোন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলে এলাকার মানুষের মনে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করে। মানুষ ঘুমিয়ে রাতের আধারে খুন হবে এটা মেনে নেয়া যায়না। এতে জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর তৎপরতা সঠিক না থাকায় দিন দিন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ ঘটনাগুলো তারই প্রমান। যা আমরা কোনভাবেই আশা করিনা। সৈয়দপুরে পর পর কয়েকটি হত্যাকান্ড ঘটায় ভীতির মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী।

সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদল বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয় সেজন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোও এ ব্যাপারে সচেতন থাকবে বলেই আমরা আশা করি। এ হত্যাকান্ডের সুরাহাও যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে হবে বলেই আমি মনে করি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (তদন্ত ইন্সপেক্টর) আতাউর রহমান জানান, আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। হত্যাকান্ড নিয়ে কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, হত্যাকান্ডের মূল আসামী আমাদের নজরদারিতে আছে। যে কোন সময় তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের কেউ রেহাই পাবেনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য