কিউবায় শক্তিশালী টর্নেডোর তাণ্ডবে নিহত ৪কিউবার রাজধানী হাভানায় টর্নেডোতে অন্তত চার জন নিহত ও প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।

কিউবার আবহাওয়াবিদ হোসে রুবিয়েরার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার রাতের এই ঝড়টি ছিল ৮০ বছরের মধ্যে কিউবায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টর্নেডো।

এ ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে, গাড়ি উল্টে পড়েছে এবং কয়েকটি ভবন ভাঙাচোরা ইটের স্তূপে পরিণত করেছে।

মোটামুটি এক কিলোমিটার ব্যাপ্তির এই দানবীয় টর্নেডো প্রায় ১৬ মিনিট ধরে হাভানার মধ্যে দিয়ে সাড়ে ১১ কিলোমিটারের পথ জুড়ে তাণ্ডব চালায়।

মূলত হাভানার পূর্বাংশ ও কেন্দ্রীয় এলাকাতেই বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকালে এই এলাকার সড়কগুলোতে ভাঙা কাঁচ, বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষের পাশাপাশি উপড়ে পড়া গাছ ও বৈদ্যুতিক লাইন দেখা গেছে। টর্নেডোর পর কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে, এতে পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।

টর্নেডো আঘাত হানার কিছুক্ষণ পর কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এরপর এক টুইটে প্রাথমিকভাবে তিন জন নিহত হওয়ার কথা জানান। পরে সোমবার সন্ধ্যায় কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চার জন নিহত ও ১৯৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানায়।

হাভানার রেগলা এলাকার বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী ওদালিস দিয়াজ জানান, পাশের পাঁচ তলা একটি ভবনের ছাদ ধসে তার প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর পড়ার পর ওই প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রিন্সা লাতিনাকে রুবিয়েরা জানিয়েছেন, টর্নেডোটি ইনহ্যান্স ফুজিতা স্কেলে ‘ইএফ৪’ মাত্রার ছিল বলে এর ধ্বংসক্ষমতা থেকে ধারণা পাওয়া গেছে।

এটি এই স্কেলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী ক্যাটাগরির টর্নেডো যার বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ ঘন্টায় ৩২২ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার কারণে হারিকেন ঋতুতে কিউবায় মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। কিন্তু এ টর্নেডোটি হাভানাকে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে। উত্তর থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস ও দক্ষিণ থেকে আসা তুলনামূলক উষ্ণ বাতাস, বজ্রঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে আগেই সতর্ক করেছিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

কিন্তু ছোট পরিসরে তাণ্ডব চালানো টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস অনুমান করা প্রায় অসম্ভব বলে পরে জানিয়েছেন রুবিয়েরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য