দিনাজপুর শহরে চতুরমুখী যানবাহনের আগ্রাসন জ্বাল লাইসেন্সের ছড়াছড়িদিনাজপুর সংবাদাতাঃ শহরে চতুরমুখী যানবাহনের আগ্রাসনে প্রশাসন হিমসিম খাচ্ছে। কুল রাখি না মান রাখি এঅবস্থায় সমস্যা প্রকট আকার ধারন করছে। সময় মত কঠোর না হলে নিয়ন্ত্রন করা সকল প্রশাসনের আয়ত্বের বাইরে চলে যাবে। শহর বাস অযোগ্য এবং শিশুদের চলাচলে মারাত্বক ঝুকির মুখে পড়বে আর জ্বাল লাইসেন্সের কারনে অপরাধ প্রবনতা মারাত্বক আকার ধারন করবে বলে আশংকা অভিজ্ঞ মহলের।

ট্রাক, বাস, ট্রাক্টর, পিকআপ ও অটোবাইক চলাচলের মাঝে এখন প্রবেশ করছে ব্যাটারী চালিত রিক্সা, রিক্সা ভ্যান, পাগলু, মোটর চালিত ভ্যান বা টলি। এসব অবৈধ যানবাহন শহরে প্রবেশের কোন অনুমোতি না থাকলেও ব্যাপক হারে প্রবেশ করছে সম্প্রতি। ট্রাফিক পুলিশ ট্রাক, ট্রাক্টর ও অটোবাইক সামাল দিতেই হিমসিম খাচ্ছে। তার উপর ওই সব লাইসেন্স বিহিন যানবাহন ব্যাপক হারে প্রবেশ করায় শহরে বসবাস করাই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

হাজার হাজার স্কুল গামী ছাত্রছাত্রী জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। অবৈধ অটোবাই প্রবেশ প্রশাসন নিয়ন্ত্রন করতে একবার কঠোর হস্তে দমন করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে আবারো অবৈধ অটোবাইককে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এখন শহর অবৈধ যানবাহনের শহরে পরিনত হয়েছে এবং শহরবাসীকে সার্বক্ষনিক মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে শহরে চলাচল করতে হয়। মোটর চালিত টলি ও পাগলু চলে নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে। এসব যানবাহনে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। কিন্তু কোন প্রশাসনেরই টনক নড়ছে না।

লাইসেন্স বিহীন অটোবাইক শহরে প্রবেশ বন্ধে পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহন করার পর অনুমোতি না থাকলেও সদর উপজেলা পরিষদ, বিরল উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি উপজেলা পরিষদ অটোবাইকের লাইসেন্স দেয়া শুরু করে এবং হাজার হাজার অটোবাইকের লাইসেন্স প্রদান করে যা শহরে চলাচল করতে দেখা যায়। সদর উপজেলা পরিষদে এব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তারা কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

যে সব অটোবাইকের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে তার বিপরীতে আদায়কৃত টাকা কত নেয়া হচ্ছে এবং কোন তহবিলে জমা হচ্ছে তার কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। উপজেলা পরিষদের অটোবাইকের লাইসেন্স দেয়ার কোন এখতিয়ার নাই বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকের অভিমত উপজেলা পরিষদের দেয়া লাইসেন্সধারী অটোবাইক গুলোকে স্ব স্ব উপজেলা পরিসরেই চলাচলের সীমাব্ধ রাখা উচিৎ। তাদের অভিমত কোন মন্ত্রনালয়েরই অনুমোতি নাই উপজেলা পরিষদের লাইসেন্স দেয়ার। অটোবাইকের লাইসেন্স দেয়ার নামে আদায়কৃত লাখ লাখ টাকার কোন হদিষ নাই বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে এই বিশাল টাকা গেল কোথায়?

এদিকে এক শ্রেণীর প্রতারক এই লাইসেন্স প্লেট একাদিক অটোবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে অবৈধ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একই নাম্বার প্লেট কয়েক জন অটোবাইক চালক ব্যবহার করছে। এই প্রতারক চক্রকে রুখবে কে? এসব জালিয়াতি নম্বার প্লেট দিয়ে বিভিন্ন অপরাদ মুলক কাজে অটো বাইক ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মূলত ছিনতাই, মাদক পরিবহন কাজেই বেশী ব্যবহার হচ্ছে। এই প্রতারক চক্রের সাথে কি কোন প্রশাসন জড়িত রয়েছে? থাকলে শহর এবং মহরতলীতে অপরাধ প্রবনতা ব্যবক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। বিষয়টিকে পুলিশ প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য